পাঁচ বছর পর পরিচয় মিলেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়ানো এক যুবকের। তিনি নেপালের নাগরিক। যুবকের নাম রিয়ান আনসারী। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে নিজ দেশে ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারতের জলঙ্গী সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন রিয়ান। এরপর দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতেন তিনি। পরে ইসলামপুরের ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি পলাশ আহমেদ (মুক্তার সরকার) তাকে নিজের আশ্রয়ে নেন। গত চার বছর ধরে পলাশই তার চিকিৎসা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি রিয়ানের মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি পরিবারের একটি ইমো নম্বর দেন। সেই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে রিয়ানের পরিচয় নিশ্চিত করেন তার স্বজনরা। রিয়ান নেপালের বারা জেলার কালাইয়া থানার বাসিন্দা বাদল আনসারীর ছেলে। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন, এটি তার মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
রিয়ানের আশ্রয়দাতা পলাশ আহমেদ বলেন, ‘চার বছর ধরে রিয়ান আমার কাছেই আছে। পরিবারের সদস্যের মতোই তাকে দেখভাল করছি। সে ভাত খেতে চায় না, মাংসের ঝোল দিয়ে মুড়ি ও ডিম ভাজি পছন্দ করে। শুরুতে ভাষা বুঝতে কষ্ট হলেও এখন সে কিছুটা বাংলা বলতে পারে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরে সে খুব খুশি। তাকে বিদায় দিতে খারাপ লাগবে, তবে পরিবারের কাছে ফিরছে ভেবে আনন্দ হচ্ছে।’
ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক জানান, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ওই যুবকের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে পরে বলতে পারব।’
রিয়ানের সন্ধান মেলায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর এক বিদেশি নাগরিককে আগলে রাখায় পলাশ আহমেদের মানবিক দৃষ্টান্তের প্রশংসা করছেন এলাকাবাসী।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


