জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। জবানবন্দি শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন সাক্ষীকে জেরা করেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
সাক্ষী তার জবানবন্দিতে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়ায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে শুরু করেন।
ওই সময় থানাপাড়া বাঁধ এলাকায় একটি বিজিবির গাড়িসহ একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন, যাতে আন্দোলনকারীরা শহরে প্রবেশ করতে না পারে।
তিনি বলেন, ‘থানাপাড়া এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন।’
জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিভিন্ন দিক থেকে আসামি মাহবুব উল আলম হানিফের নির্দেশনায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ও পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং শত শত আন্দোলনকারী গুলিতে আহত হন।
নিহতদের মধ্যে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু আব্দুল্লাহ ছাড়াও বাবলু ফরাজি, বাবু, উসামা এবং আরও দুজন ছিলেন বলে সাক্ষী জানান।
সাক্ষীর দাবি অনুযায়ী, হানিফের নির্দেশনায় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডে আসামি আতাউর রহমান আতা, সদর উদ্দিন খান ও আজগর আলী সরাসরি ভূমিকা পালন করেন।
তিনি জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ব্যক্তিগত সূত্রের মাধ্যমে তিনি হানিফের নির্দেশনার বিষয়টি জানতে পারেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহতের ঘটনায় করা এ মামলায় হানিফসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।
অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
মামলায় হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো হলো আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগ যথেষ্ট বলে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে একমত পোষণ করে সভায় উপস্থিত থাকা, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় সভা করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ ও ষড়যন্ত্র করা এবং ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় মাহবুব উল আলম হানিফসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।
গত বছরের ৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন।


