কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন, সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও সুজন। তারা সবাই পেশাদার ছিনতাইকারী। কুমিল্লা ও আশপাশের জেলা থেকে এসে হাইওয়ে রোডসংলগ্ন এলাকায় ডাকাতি-ছিনতাই করেন। ঘটনার দিন নিহত কাস্টমস কর্মকর্তা কুমিল্লা হাইওয়েতে সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় গ্রেপ্তার পাঁচজন যাত্রীবেশে বৈরাগীকে সিএনজিতে তোলেন।
তিনি বলেন, মূলত ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই তারা বৈরাগীকে সিএনজিতে তোলেন। এক পর্যায়ে সিএনজির ভেতর তাদের সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তার কথা কাটাকাটি হয়। পরে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বৈরাগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করেন। তারা বৈরাগীর মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ কুমিল্লার ময়নামতিসংলগ্ন একটি হোটেলের পাশে ফেলে রেখে যান।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর থানায় মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে রোববার তাদের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সঙ্গবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা ও আশপাশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে।
জানা গেছে, নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) হিসেবে কাস্টমস, এক্সারসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন। বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গত ১১ এপ্রিল সেখানে যান।
প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ফোনে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরদিন শনিবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।


