কুতুবদিয়া সৈকতে পড়ে আছে দেড় টন ওজনের মৃত তিমি

কুতুবদিয়া সৈকতে পড়ে আছে দেড় টন ওজনের মৃত তিমি
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া সৈকতে পড়ে আছে মৃত তিমি। শুক্রবার সকালে |ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজারের সাগরদ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার উপকূলে পড়ে আছে প্রায় দেড় টন ওজনের একটি মৃত তিমি। পাঁচ দিন আগে সৈকতে ভেসে আসা তিমিটি বালুচরে পুঁতে রাখা হলেও জোয়ারের পানিতে বালু সরে যাওয়ায় আবারও এর কিছু অংশ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। পচে যাওয়া তিমি থেকে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতে আসা দর্শনার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত শনিবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের পশ্চিম সৈকতে মৃত তিমিটি ভেসে আসে। খবর ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী মানুষ তিমিটি দেখতে ভিড় করেন। অনেকে তিমিটির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরদিন রোববার রাতে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে খননযন্ত্র দিয়ে বালুচরে গর্ত খুঁড়ে তিমিটি পুঁতে ফেলা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, তিমিটির ওজন অন্তত দেড় টন।

দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘জোয়ারের তীব্রতায় বালু সরে যাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে তিমিটির কিছু অংশ আবার দেখা যায়। বৃহস্পতিবার সকালে আরও বড় অংশ ভেসে উঠেছে। তিমিটি পচে যাওয়ায় পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত আবার তিমিটি পুঁতে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ‘কুতুবদিয়ার উপকূলে এত বড় মৃত তিমি ভেসে আসার ঘটনা আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তিমিটি কী কারণে মারা গেছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া দরকার।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন

জানা গেছে, সম্প্রতি কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়েছেন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটিতে রয়েছেন। দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় এখানে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বন বিভাগের স্থায়ী কোনো কর্মকর্তা নেই। উপকূলীয় বন বিভাগের কয়েকজন কর্মী প্যারাবন রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও মৃত তিমির বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, ‘কুতুবদিয়া সৈকতে একটি মৃত তিমি ভেসে আসার খবর আমরা পেয়েছি। তিমিটির মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে আমাদের স্থায়ী কোনো কর্মকর্তা নেই। তবে তিমিটি বালুচরে পুঁতে ফেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

কুতুবদিয়া উপজেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘পচা তিমি থেকে দুর্গন্ধের পাশাপাশি জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দ্রুত তিমিটি কেটে টুকরো করে গভীরভাবে পুঁতে না ফেললে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।’

প্রায় দেড় বছর আগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের দরিয়ানগর ও হিমছড়ি এলাকায় প্রায় তিন মেট্রিক টন ওজনের দুটি মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। তখন জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে খননযন্ত্র দিয়ে গভীর গর্ত খুঁড়ে তিমি দুটি পুঁতে ফেলা হয়। তবে কুতুবদিয়ায় খননযন্ত্র নেওয়া কঠিন হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad