প্রবাসের মাটিতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে বেগবান করতে নিয়মিত আয়োজন ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৪তম গ্রন্থালোচনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার নিউ ইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে দেশি-বিদেশি বিদগ্ধ সাহিত্য অনুরাগী ও লেখকদের উপস্থিতিতে এই আসরটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটির মনোজ্ঞ সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী নীরা কাদরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুনন্দা সিকদারের বিখ্যাত স্মৃতিকথাধর্মী গ্রন্থ ‘দয়াময়ীর কথা’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কাউসারী মালেক রোজী।
তিনি তার আলোচনায় দেশভাগ-পরবর্তী বাস্তবতা, শৈশবের হারানো দিন এবং আবহমান গ্রামবাংলার অটুট সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলেন।
এরপর আহমেদ মাযহার আলোচনা করেন পারভেজ হোসেনের ‘সুবর্ণপুরাণ’ গ্রন্থটি নিয়ে। তিনি বইটির প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে আধুনিক সমাজ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিবর্তন কীভাবে চিত্রিত হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করেন।
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শংকরের কালজয়ী রচনা ‘কত অজানারে’ নিয়ে আলোচনা করেন সুরীত বড়ুয়া। তিনি দেখান কীভাবে ছোট ছোট আখ্যানের বুননে একটি বৃহত্তর জীবনবোধ এই গ্রন্থে মূর্ত হয়ে উঠেছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত হুমায়ূন আহমেদের মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ নিয়ে আলোচনা করেন দিমা নেফারতিতি। তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের বাঙালির সংগ্রাম, ত্যাগ এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও ফুটে ওঠা মানবিকতার দিকগুলো উঠে আসে।
মনজুর আহমেদের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘আমার সেই সময়’ নিয়ে আলোকপাত করেন হাসান ফেরদৌস। তিনি অতীত সমাজ এবং ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতার দলিল হিসেবে এই বইটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। বাংলা সাহিত্যের রম্যসম্রাট সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘শ্রেষ্ঠ রম্যরচনা’ নিয়ে আলোচনা করেন মোহাম্মদ মহিবুর রহমান। মুজতবা আলীর বহুমাত্রিক ভাষাজ্ঞান, তীক্ষ্ণ রসবোধ এবং প্রাণবন্ত শৈলী কীভাবে পাঠকের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে, তিনি তা তুলে ধরেন। সবশেষে এ বি এম সালেহ উদ্দীন আলোচনা করেন মুহাম্মদ আব্দুল জলিলের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘লোকসাহিত্যের নানাদিক’ নিয়ে, যেখানে বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গভীর বিশ্লেষণ পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রানু ফেরদৌস, বদরুন নাহার ও রেজুয়ান সোবহানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
পরিশেষে সঞ্চালক নীরা কাদরী কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান আকিলা ই জর্ডেইন ডোনাল্ডসন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রবাসের ব্যস্ত নাগরিক জীবনে এই ধরনের সাহিত্য আয়োজন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে উপস্থিত সকলে অভিমত ব্যক্ত করেন।


