প্রবাসে সৃজনশীল সাহিত্য চর্চার ধারাবাহিকতায় নিউ ইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৩তম গ্রন্থালোচনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নীরা কাদরী। তিনি উপস্থিত আলোচকদের স্বাগত জানিয়ে মাসিক এই সাহিত্য আসরের সূচনা করেন।
প্রথম আলোচক কবি ও লেখক মোহাম্মদ মহিবুর রহমান অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় হুমায়ুন আজাদের ‘যাদুকরের মৃত্যু’ গল্পগ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে লেখক রূপক ও প্রতীকের আশ্রয়ে সমাজের রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং প্রচলিত গল্পের কাঠামোর বাইরে গিয়ে এক নতুন শিল্পসত্তা নির্মাণ করেছেন।
পরবর্তী আলোচক চারু হক, চন্দনা সুলতানা ও জাহীদ রেজা নূর: শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেনের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘স্মৃতিপটে একজন সিরাজ’ নিয়ে গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেন।
এ বি এম সালেহ উদ্দীন-এর ‘প্রবন্ধ বিচিত্রা’: লেখক ম. আমিনুল হক চুন্নু এই গ্রন্থটি নিয়ে আলোকপাত করেন। বইটিতে অন্তর্ভুক্ত ২২ জন মনীষীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি মাওলানা আকরাম খাঁ, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, কবি শহীদ কাদরী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ প্রমুখের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
সৈয়দ শামসুল হক-এর ‘কলমের সঙ্গে সংসার’নিয়ে বিশিষ্ট আলোচক রানু ফেরদৌস বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা সৈয়দ শামসুল হকের সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই বইটি নিয়ে চমৎকার আলোচনা উপস্থাপন করেন।
‘বনফুলের শ্রেষ্ঠ গল্প’: কবি ও লেখক সুরীত বড়ূয়া বনফুলের গল্পের বৈচিত্র্য, ক্ষুদ্র পরিসরে জীবনের গভীরতা এবং বর্ণনার চমৎকারিত্ব পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন।
আব্দুল ওদুদ-এর ‘হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ’: সবশেষে বিশিষ্ট লেখক এ বি এম সালেহ উদ্দীন এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি গ্রন্থে বর্ণিত মুসলমানের আত্মপরিচয়, হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের ঐতিহাসিক টানাপোড়েন এবং দেশভাগের প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও প্রাবন্ধিক আহমেদ মাযহার।


