ইসরায়েলের মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলা তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ও নৌবাহিনীর সদস্যদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তারা দাবি করেছে, যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা-এর নাবিকদের মৃত্যুর প্রতিশোধ এবং গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব হত্যার জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়।
তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কিনা—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা লক্ষ্য করে টর্পেডো হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। ওই হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ৮০ জনের বেশি সদস্য নিহত হন বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব।
কাতার ও উপসাগরীয় মিত্রদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাজ্যের
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে টেলিফোন আলাপে উপসাগরীয় অঞ্চলে কাতারসহ সব মিত্র দেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আল জাজিরার খবরে এতথ্য জানানো হয়েছে।
আলাপচারিতায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য কাতার ও উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
স্টারমার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বেপরোয়া হামলা পুরো অঞ্চলকে আরও বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়ছে, যার প্রভাব যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও অনুভূত হচ্ছে।
উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলায় আহত ৪
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত শমোনায় রকেট হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, দেশটির চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে একজন ৬০ বছর বয়সী পুরুষ গুরুতর অবস্থায় আছেন। এ ছাড়া ৬৮ বছর বয়সী এক নারী মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আরও দুইজন ২০ বছর বয়সী আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইরান দেশটির মধ্য, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর জবাবে হাইফা বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এসব হামলা-পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
ইরানের হামলায় ইসরায়েলের তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত
ইসরায়েলের হাইফা শহরে অবস্থিত বাজান গ্রুপের তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলের জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে, এ ঘটনায় একজন সামান্য আহত হয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা।
ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর তেমন কোনো বড় ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও জানান, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বেশিরভাগ বাসাবাড়িতে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং বাকি এলাকাগুলোতেও দ্রুত তা স্বাভাবিক করা হবে।
বৃহস্পতিবার ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা আরও জোরদার করেছে, যা চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
লেবাননে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ হাজার ১ জন নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, বুধবার পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৯৬৮, যা বেড়ে এখন এক হাজার ছাড়িয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ৭৯ জন নারী, ১১৮ জন শিশু এবং ৪০ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া ইসরায়েলি হামলায় আরও ২ হাজার ৫৮৪ জন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর ১৭৮ মার্কিন ও ইসরায়েলি গুপ্তচর আটক: আইআরজিসি
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন ও ইসরায়েলি গুপ্তচর হিসেবে কাজ করা ১৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে। মেহর নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, আটক ব্যক্তিরা ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কেন্দ্র এবং সামরিক চেকপোস্টের ছবি ও অবস্থান মার্কিন-ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাকে পাঠাচ্ছিল, যাতে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা যায়।
এ ছাড়া, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশিও ছিলেন। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, অবস্থান নির্ণয় যন্ত্র, বিশেষ ধরনের যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে।
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতের অঙ্গীকার ৬ দেশের
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপান ঘোষণা করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে ‘যথাযথ উদ্যোগ ‘ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এক যৌথ বিবৃতিতে এই ছয় দেশ এমনটা জানিয়েছে বলে আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উৎপাদন বাড়ানো এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতেও তারা কাজ করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি প্রকাশ করছি।’
কৌশলগত তেল মজুত ছাড়ের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমরা জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে অন্যান্য পদক্ষেপও গ্রহণ করব, যার মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উৎপাদন বাড়ানো।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি করা হতো। ইরান বারবার বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ নয়, খোলা।
যুদ্ধ বন্ধ করার এখনই উপযুক্ত সময়: জাতিসংঘ মহাসচিব
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার জন্যও অনুরোধ করেছেন। আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের গুতেরেস বলেন, ‘এই যুদ্ধ বন্ধ করার এখনই উপযুক্ত সময়, যা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।’
তিনি আরও বলেন, জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়াও জরুরি।
ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ইরানি তেলের ওপর থেকে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেছেন, সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব কৌশলগত তেল মজুত থেকেও বাজারে তেল ছাড়তে পারে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বেসেন্ট উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবগতিতেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে শুরু করেছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম স্থিতিশীল হতে পারে এবং সরবরাহ সংকট কিছুটা কমবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের লক্ষ্য অপরিবর্তিত: হেগসেথ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আক্রমণাত্মক সুরে বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ একথা বলেন। আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে।
হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য প্রথম দিন থেকে যেমন ছিল ঠিক তেমনই রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার ধ্বংস করা, যাতে তারা পুনর্গঠন করতে না পারে। তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং নিশ্চিত করা যে ইরান যেন আর কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান দশকের পর দশক রাষ্ট্রীয় সম্পদ তাদের জনগণের জন্য নয়, বরং ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় বিনিয়োগ করেছে। আমরা সেগুলো খুঁজে বের করছি।
যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম ১৪০% বাড়ল, ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ
যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি থার্ম (২ দশমিক ৮ ঘনমিটার) ১৭১ দশমিক ৩৪ পেন্স বা ২ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর থেকে দেশটিতে গ্যাসের দাম আর কখনো এতটা বাড়েনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি বাজারে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম ছিল ৭১.১৩ পেন্স প্রতি থার্ম। সেখান থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়ে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে।
এদিকে কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক গ্যাস সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্য এখনো আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও কাতার থেকে আসা গ্যাসের ওপর। ফলে বৈশ্বিক সংকট দেখা দিলেই দেশটির বাজারে দ্রুত এর প্রভাব পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেবে ইরান, তবে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা
ইরান আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বয়কট করবে, এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ।
বুধবার ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেব। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।’
এদিকে মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত ইরানের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাস জানিয়েছে, ইরান ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি খেলোয়াড়দের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সবাই ফিফার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত
গাজা শহরের জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে আল-শিফা হাসপাতালের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আল জাজিরা। এর আগে গাজা শহরের তুফাহ এলাকার একটি জনসমাবেশে আলাদা ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন নিহত এবং অন্য একজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
কুয়েতের তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা, আগুন
কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারের একটি অপারেশনাল ইউনিটে ড্রোন আঘাত হানার পর সেখানে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। তবে খুব বড় কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।
কুয়েত নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান অনুসরণ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এই তেল শোধনাগারটি কুয়েত সিটি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
ইরানের দোরুদ এলাকায় হামলায় নিহত ১২
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দোরুদ কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা হয়েছে বলে স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। ওই কর্মকর্তার মতে, এই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ১১৬ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই দিনে নিহত ৪৫
লেবাননের বিভিন্ন স্থানে গত দুই দিনে ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের সংখ্যা নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী, কেবল দুই দিনেই অন্তত ১৬ শিশুসহ ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে দেইর জাহরানি এলাকায় চালানো হামালায় দুই শিশুসহ তিন জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। সিদনে নিহতের সংখ্যা দুই, হারুতে ছয় জন, জেবচিত এলাকায় হামলায চার সিরীয় নাগরিকসহ মোট সাত জন নিহত হয়েছে। এছাড়া বালবেকে চারজন, সাহমারে নয়জন, জমেইজমাহতে তিন জন এবং বৈরুতে ১৪ শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছে।
দক্ষিণ পার্সে ইসরায়েলি হামলার পরিকল্পনা জানত না যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের
ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার ইসরায়েলি পরিকল্পনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র জানত না বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাতে তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েল আর কোনো হামলা চালাবে না। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ পার্সে চালানো ওই নির্দিষ্ট হামলা সম্পর্কে কিছুই জানত না।
যদিও তার এই দাবি ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত বলে জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে। ওই কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছিলেন, হামলায় মার্কিন বাহিনী সরাসরি জড়িত না থাকলেও এটি ওয়াশিংটনের অনুমোদন নিয়েই তা পরিচালিত হয়েছিল। ট্রাম্প এমন সময় এই বক্তব্য দিলেন যখন দক্ষিণ পার্সে হামলার জবাবে কাতারের রাস লাফান গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে ইরান। সেইসঙ্গে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলার হুমকি দেওযা হয়েছে। কাতারের ওপর ইরানের এই পাল্টা হামলার নিন্দা জানিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, `তেহরান যদি কাতারের এলএনজি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুরো দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রকে এমন শক্তিতে উড়িয়ে দেবে যা ইরান আগে কখনো দেখেনি।‘
ইরাকে আধাসামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে বিমান হামলা
ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) জানিয়েছে, মধ্য সালাহ আল-দিন গভর্নরেটে অবস্থানরত তাদের ৩১তম ব্রিগেডের একটি অবস্থানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। এতে তাদের একজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। পিএমএফর বিবৃতির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, আল-সিনিয়া বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত ওই সাইটে হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, `আহতদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিকূলতার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে শত্রুপক্ষের বিমানগুলো ক্রমাগত অবস্থান করছিল এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিকবার অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।‘ তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে, ইরাকি ন্যাশনাল এজেন্সি জানিয়েছিল সালাহ আল-দিন গভর্নরেটের বাজি জেলায় পিএমএফ-এর আরেকটি ঘাঁটিতে হামলায় অন্তত তিনজন যোদ্ধা আহত হয়েছেন।
কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় ইরানি হামলা
হামলার হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের প্রধান গ্যাস স্থাপনা রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে `উল্লেখযোগ্য‘ মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে এই হামলা চালানো হয়। পরে এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, `রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিকে লক্ষ্য করে ইরানের এই জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে কাতার রাষ্ট্র। এই হামলার ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে স্থাপনাটির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।‘
আল জাজিরা জানিয়েছে, ওই আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদক প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জিও জানিয়েছে যে, কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এই হামলা চালানো হয়। এর আগে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্যাস ও তেলক্ষেত্রগুলোর আশপাশের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিল ইরান। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, `কাতার এই হামলাকে একটি বিপজ্জনক উসকানি, সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।‘


