আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠান।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
বেনামি হিসাব খুলে ব্যাংকে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা রাখার অভিযোগে গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি কাজী জাফর উল্যাহর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ওই মামলায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা কমিশনেন উপপরিচালক শারিকা ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ঠিক করেন এদিন। শুনানিতে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে জাফর উল্যাহকে আটক করে পুলিশ। সেসময় ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সুস্থ হওয়ার পর ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত পল্টন থানার এক মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এরই মধ্যে বেনামি হিসাব খুলে ব্যাংকে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা রাখার অভিযোগে গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি কাজী জাফর উল্যাহর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
দুদকের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, কাজী জাফর উল্যাহর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলার তদন্ত চলছে।
এজাহার অনুসারে, তিনি দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান শাখার তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়া নাম, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মোট ১০টি এফডিআর হিসাব খোলেন। তাতে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা রাখেন।
পরে হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪২ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা সুদ নিয়ে এবং পরবর্তীতে ভুয়া গ্রাহকের নামে নগদ উত্তোলনের মাধ্যমে তিনি এ অপরাধলব্ধ অর্থ গ্রহণ, গোপন করেন।
এই কর্মকাণ্ডের জন্য দুদক মামলা করে।
মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে দুদক আবেদনে জানায়।


