রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনার জেরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল নিক্ষেপ এবং পুলিশের জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বেলা ৩টার দিকের এ ঘটনায় ওই সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। জাপা কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের বাধায় সমাবেশ পণ্ড হয়ে গেছে।
তারা অভিযোগ করেন, সমাবেশে বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ জলকামান নিয়ে এসে হামলা করে পুলিশ। এরপর কয়েকটি ‘সাউন্ড গ্রেনেড’ নিক্ষেপ করে।
এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী টাইমস অব বাংলাদেশ কে বলেছেন, ‘আজকে (শনিবারের) কর্মসূচির ব্যাপারে আমরা পুলিশকে চিঠি দিয়ে অবগত করেছিলাম। নিজেদের পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করতে পুলিশের পূর্বানুমতি নিতে হবে কেন- সবাই তো করছে।’
তিনি দাবি করেন, পুলিশের টিয়ারশেল, রাবার বুলেট এবং লাঠিচার্জে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ বেশ কয়েকজন আটক করেছে বলেও তার অভিযোগ।
জাপা’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজও দাবি করেন, পুলিশি বাধায় দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
পুলিশের রমনা জোনের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেছেন, ‘পূর্বানুমতি না নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করতে গেলে পুলিশ বাধা দিয়েছে।’
কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ডাকা হয়েছিল ওই কর্মী সমাবেশ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া, দলীয় প্রতীক নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র’সহ সার্বিক বিষয়ে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের এ সভা ডাকেন।
এর আগে ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে শুরু হয় কর্মী সমাবেশ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জি এম কাদের, শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ প্রথম সারির নেতারা। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে যোগ দেন নেতাকর্মীরা। চারপাশে মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ।
হঠাৎ সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় সমাবেশস্থলে সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ পাওয়া যায়।


