আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির বন্যায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার হাওর অঞ্চলের ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ‘কৃষকের ফসল ঘরে তুলতে যা করণীয়, তা করা হবে।’
বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের কাউয়ার বাড়ি খাল ও আশপাশের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের কষ্টার্জিত একমাত্র উপার্জন হচ্ছে কৃষি। হঠাৎ করে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে তাদের জমির ফসল। কেউ হয়তো কিছু ফসল পাবে, কেউ পাবে না–এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। আপাতত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও একজন কৃষকের সন্তান। কৃষকের সুবিধার্থে এবং তাদের উৎপাদিত ফসল যেন ঘরে তুলতে পারে, তার জন্য যা করণীয় আমরা তা করব ইনশাল্লাহ।’
এ সময় স্থানীয় কৃষকরা তাদের দুর্দশার কথা তার কাছে তুলে ধরেন।
হাওরের এ পরিস্থিতির জন্য তিনি পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন। কামাল বলেন, ‘বিগত ১৫ থেকে ২০ বছরে এ অঞ্চলের কোনো নদী বা খাল খনন হয়নি। উল্টো বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দিয়ে বিগত সরকারের দলীয় নেতাকর্মীরা মাছ চাষ করে অর্থ উপার্জন করেছে। নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। নতুন বাংলাদেশে এমন অনিয়মের ন্যায়বিচার চাই।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সারা দেশে খাল ও নদী খননের একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আওতায় হাওর অঞ্চলের খালগুলোও খনন করা হবে বলে তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করেন।
নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের ৪২ হাজার হেক্টর জমির ফসল বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক গাফিলতি ও স্বজনপ্রীতি রয়েছে। আমি এখান থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন অনতিবিলম্বে হাওর অঞ্চলে এসে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকার যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো একটু সক্রিয় হলে আমরা সেদিকে এগিয়ে যেতে পারব।’
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিদ্দিক হোসেন, ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া, বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


