২০২৫ সালে কর্মস্থলে সংঘঠিত দুর্ঘটনায় মোট এক হাজার ১৯০ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২২২ জন। মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর–রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেইফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (ওএসএইচই) ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্ক এবং ওশি ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ওশি ফাউন্ডেশনের পক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প প্রতিনিধি মাহমুদা সুলতানা স্নিগ্ধা।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৯০৫ জন এবং আহতের সংখ্যা ছিল ২১৮ জন। এক বছরের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ২৮৫ জন, যা কর্মস্থলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে।
এ ছাড়া চলতি বছরে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় এক হাজার ৩২৮ জন পুরুষ ও ৮৪ জন নারী শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। নারী শ্রমিকদের অধিকাংশই তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বলে জানান মাহমুদা সুলতানা স্নিগ্ধা।
প্রতিবেদনে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭২৯ জন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১১৮, উচ্চতা বা পৃষ্ঠ থেকে পড়ে ১১৬, অগ্নিকান্ড ও বিস্ফোরণে ১১০, বজ্রপাতে ৮৯ জন এবং সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনায় ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে জানানো হয়।
এদিকে বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সী শ্রমিকদের মধ্যে যারা দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এতে পারিবারিক আয়, উৎপাদনশীলতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে যেখানে কর্মস্থল দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার ছিল ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৩ শতাংশে, যা কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির স্পষ্ট অবনতির প্রতিফলন।
অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ মৃত্যুহার জরুরি উদ্ধারসেবা, সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া এবং কর্মস্থলের প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতির দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে আশঙ্কা জানান মাহমুদা সুলতানা স্নিগ্ধা।
এ সময় ওএসএইচই কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ খাতে শ্রম পরিদর্শন জোরদার, দুর্ঘটনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি, নিহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য ন্যূনতম ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত, নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমখাতকে শ্রম আইন ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার আহ্বান জানান।
এসব প্রতিকার না মানলে এবং দুর্ঘটনার পর প্রতিক্রিয়ার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার না দিলে কর্মস্থলে প্রাণহানি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।


