আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি খাতের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও কমছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত কর। প্রত্যাহার হচ্ছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রেশন এবং সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে টিআইএন (টিন) দাখিলের বাধ্যবাধকতা।
সোমবার সংসদ অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাজেট বক্তৃতায় এসব প্রস্তাব দিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রীর উত্থাপিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা করা হয়েছে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী এটি বাড়িয়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। পাহাড়ি ও সমতল উভয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এবং বেতনভোগী আয়কেও করমুক্ত করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন। অর্থমন্ত্রী তার বাজেটে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রেশন এবং সম্পত্তি মিউটেশনের বেলায় টিআইএন নম্বর দাখিল বাধ্যতামূলক করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় এটি প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের জটিলতা দূর করতে বাজেটে যে বিশেষ বিধান আনা হয়েছিল, তা নিয়ে জনমনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় প্রস্তাবিত বিধানটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাধারণত অর্থমন্ত্রীর বাজেট উত্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রীর সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করে বাজেট পাস করা হয়।
এসব ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় যেসব সংশোধনী প্রস্তাব করেন সেগুলো হচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা, চিংড়ি চাষের প্রসার ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একিউফিড, ফিড এডিটিভস, প্রোবায়োটিক্স, ভিটামিন ও মিনারেলস আমদানিতে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার, স্থানীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান, ওষুধ ও স্থানীয় শিল্পে ব্যবহৃত মধু আমদানির ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, পিভিসি ও পেট রেজিন আমদানির প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করা, বৈদ্যুতিক তার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের রিফাইন কপার আমদানির ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার, ক্যাশুনাট প্রসেসিং শিল্পের কাঁচামাল অপ্রক্রিয়াজাত বাদাম আমদানির কাস্টম শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় জানান, দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্টেন্ট রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টির বেশি ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টিরও বেশি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছে।
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনের মাধ্যমে এই পাচারকৃত সম্পদ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানান তারেক রহমান।


