কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিককে রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
বুধবার দুপুরে কলেজের মূল ফটকের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকরা হলেন ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’-এর প্রতিনিধি ও কলেজ সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব শেখ এবং ‘সোনালী নিউজ’-এর প্রতিনিধি ওবায়দুল হক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১ বৈশাখ উপলক্ষে ছাত্রদলের আয়োজিত কনসার্টে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমেদ ফাহিম ও সদস্য সচিব নাজমুল হাসানের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার জেরে বুধবার দুপুরে কলেজের মূল ফটকের সামনে দুই গ্রুপ পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এ সময় রড ও দেশীয় অস্ত্রধারী নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে হামলাকারীরা দুই সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন। কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক রকি ও ইভান সাব্বিরের নেতৃত্বে উজ্জ্বল, জীবন, মাশরাফি, সাইফ ও সাব্বিরসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
আহত সাংবাদিক বিপ্লব শেখ জানান, দুই পক্ষকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে তিনি ভিডিও করতে শুরু করলে রকি তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে রড দিয়ে হাত ও পায়ে আঘাত করা হয়।
অপর আহত সাংবাদিক ওবায়দুল হক জানান, তাকে প্রথমে ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং পরে মাথায় ও পায়ে রড দিয়ে আঘাত করা হয়। হামলার পর আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কবি নজরুল কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আতিক হাসান শুভ। তিনি এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসক জয় হাজরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
হামলার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবও বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


