বেশ বড় একটা ঘটনা ঘটে গেছে বিনোদন দুনিয়ায়। প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারকে অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। দীর্ঘ দরকষাকষি ও প্রতিযোগিতার পর শেষ পর্যন্ত এই দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ চুক্তিটি অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি শেয়ার ৩১ ডলার নগদ মূল্যে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি কিনবে প্যারামাউন্ট। নেটফ্লিক্সের আগের প্রস্তাবের তুলনায় এটি বেশি মূল্যবান হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বোর্ড প্যারামাউন্টের প্রস্তাবের দিকেই ঝুঁকে পড়ে।
প্রথম দিকে নেটফ্লিক্স প্রায় ২৭ দশমিক ৭৫ ডলার প্রতি শেয়ার দরে প্রায় ৮৩ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ডেভিড এলিসনের নেতৃত্বাধীন প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স আরও বেশি মূল্যের প্রস্তাব দেয়। পাল্টা দর দেওয়ার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায় নেটফ্লিক্স। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তারা প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ‘ব্রেক-আপ ফি’ পাবে।
এই অধিগ্রহণ বাস্তবায়নের জন্য বড় অঙ্কের অর্থায়নের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি এলিসন পরিবার ও তাদের অংশীদার বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইক্যুইটি বিনিয়োগ দিচ্ছেন।
প্যারামাউন্টের অধীনে রয়েছে সিবিএস, প্যারামাউন্ট পিকচার্সসহ একাধিক সম্প্রচার ও কেবল নেটওয়ার্ক। অন্যদিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির মালিকানায় রয়েছে এইচবিও, সিএনএন, ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্সসহ বিশাল চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন লাইব্রেরি। ‘হ্যারি পটার’, ‘গেম অব থ্রোনস’, ‘ডিসি ইউনিভার্স’, ‘মিশন ইম্পসিবল’ ও ‘স্পঞ্জবব স্কয়ারপ্যান্টস’-এর মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও এই একীভূত কনটেন্ট ভাণ্ডারের অংশ হবে।
স্ট্রিমিং বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্যারামাউন্ট তাদের প্যারামাউন্ড প্লাস (Paramount+) এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ম্যাক্স (সাবেক এইচবিও ম্যাক্স) প্ল্যাটফর্মকে একত্র করে ভবিষ্যতে একটি বড় বৈশ্বিক স্ট্রিমিং সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে। এতে একই প্ল্যাটফর্মে প্রিমিয়াম সিরিজ, চলচ্চিত্র, লাইভ খেলাসহ অনেক কিছু পাওয়া যেতে পারে।
তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে এখনো বেশ কিছু ধাপ বাকি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে সিবিএস ও সিএনএনের মতো বড় সংবাদমাধ্যম একই মালিকানার অধীনে চলে এলে প্রতিযোগিতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
সব ধরনের অনুমোদন পাওয়া গেলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই একীভূতকরণ সম্পন্ন হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র ও স্ট্রিমিং শিল্পে শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। হলিউডের ঐতিহ্যবাহী স্টুডিও শক্তি এবং ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে বিনোদন জগতের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।


