জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ এবার খাগড়াছড়ির প্রসঙ্গে ‘ভুয়া ধর্ষণ’ শব্দ ব্যবহার করে দুঃখ প্রকাশ করলেন। চাইলেন ‘ধর্ষকের কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি’।
সোমবার বিকালে ফেসবুক পোস্টে তিনি রোববার হাতিয়ায় দেওয়া ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। পাশাপাশি পার্বত্য সংকট মোকাবেলায় ‘আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ’ করার আহ্বান জানান।
তবে এর আগেই খাগড়াছড়ি পরিস্থিতি নিয়ে ‘নীরবতা’ ও স্কুলছাত্রী ধর্ষণ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হান্নান মাসউদের ‘মিথ্যাচারের প্রতিবাদে’ দল ছাড়ার ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) অলিক মৃ।
এদিন দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজেই এ কথা জানান। অলিক মৃ ভিন্ন ভাষাভাষী গারো জনগোষ্ঠীর নেতা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে টাঙ্গাইল অঞ্চলে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
এরপর হান্নান মাসউদ পরিস্কার করলেন নিজের অবস্থান।
মাসউদ ফেসবুক পোস্টে ব্যাখায় বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) দ্বীপ হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নে এক সমাবেশে আমি ভুলবশত ও তাৎক্ষণিকভাবে “ভুয়া ধর্ষণ” শব্দটি ব্যবহার করে ফেলি যা কোনোভাবেই আমার ইন্টেনশন ছিল না। ধর্ষণের মতো গর্হিত অপরাধকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। ধর্ষকের কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দটি ব্যবহার করায় আমি বিব্রত ও দুঃখিত। আশা করি আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থক ও সমালোচকরা এটাকে আমার মুহূর্তের ভুল হিসেবেই বিবেচনা করবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘পাহাড় ও সমতলের বাংলাদেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহবান থাকবে পরাজিত ও ফ্যাসিবাদী শক্তির সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে ঐকবদ্ধ থাকুন। আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন। উভয় পক্ষের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনি ও সরকারের প্রতি আহবান জানাই।’
রোববার নোয়াখালীর হাতিয়ার এক অনুষ্ঠানে মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, ‘ভারত শেষ ট্রাম্পকার্ড খেলে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। একটা ভুয়া ধর্ষণের ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা পাহাড়ি-বাঙালিদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।’
মাসউদের আরো অভিযোগ ‘পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। ভারত আমাদের এই পার্বত্য অঞ্চলকে কেড়ে নিতে চায়।’
‘আমরা এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে ছেড়ে দেবো না। ১৯৭১ সালে যেমন পাকিস্তানের মোকাবিলা করেছে এদেশের মানুষ তেমনি ২০২৫ সালে ভারতকে মোকাবিলা করবো আমরা’, বলেন তিনি।
অন্যদিকে, এর আগে অলিক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ তুলেছেন, ‘খাগড়াছড়িতে আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণ, আদিবাসীদের ওপর হামলা, আদিবাসীদের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং তিনজন আদিবাসীকে হত্যার ঘটনা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির নীরবতা এবং ধর্ষণ নিয়ে এনসিপির নেতা হান্নান মাসউদ-এর মিথ্যাচারের প্রতিবাদ।’
তিনি বলেন, ‘আমি অলিক মৃ, জাতীয় নাগরিক পার্টি -এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মূখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) পদ থেকে পদত্যাগ করে পার্টির ইমেইল এবং দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছি।’
‘এনসিপির জন্য শুভ কামনা। ইনকিলাব জিন্দাবাদ,’ যোগ করেন তিনি।
রোববার পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় নিরাপত্তা বাহিনী, বাঙালি বসতি স্থাপনকারী (সেটেলার) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় গুলিবিনিময়ে অন্তত তিনজন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন এবং ১৩ সেনা সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করে গুইমারার রামসু বাজারে দুপুর ১টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সহিংসতার পর, ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ ফেসবুক পোস্টে তিন পার্বত্য জেলা—রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে ‘অনির্দিষ্টকালের’ অবরোধ ডেকেছে। স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে এর আগে শনিবার অবরোধ চলছিল। সে দিনও কয়েক দফা সংঘাত হয়।


