চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ‘সনাতনী জাগরণ জোট’-এর মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম এস এম আলাউদ্দিন ভার্চুয়াল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, আদালতে চিন্ময় দাসকে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষ গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। শুনানি শেষে বিচারক গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
রোববার আলিফ হত্যা মামলা ছাড়াও পুলিশের কাজে বাধা, বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের ওপর হামলার অভিযোগে আরও তিনটি মামলায় চিন্ময়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। সোমবার শুধুমাত্র হত্যার মামলার শুনানি হয়, বাকি তিন মামলার শুনানি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হলে তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলায় আইনি কার্যক্রম চলমান থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
চিন্ময়ের পক্ষের আইনজীবীদের দাবি, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকায় ‘জাতীয় পতাকা অবমাননার’ অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হন চিন্ময় দাস। ওই মামলায় হাইকোর্ট গত সপ্তাহে তাকে স্থায়ী জামিন দিলে, রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এক সিনিয়র আইনজীবীর মৃত্যুতে রোববার নির্ধারিত শুনানি স্থগিত হয়।
চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রোববার আদালতে চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুরের পর তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় তারা আদালতের সামনের রাস্তায় বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে পাঠায়।
হট্টগোলের মধ্যেই ‘রঙ্গম কনভেনশন হল’ সড়কে আইনজীবী আলিফকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার তিনদিন পর, ২৯ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চিন্ময়সহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫-১৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।


