নিরাপত্তা শঙ্কায় সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। নেপথ্যে ছিল বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত। মোস্তাফিজকে বাদ দেয়ার কোনো যথাযথ কারণ এখনো ব্যাখা করেনি বিসিসিআই। এতে করে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও অবনতি ঘটেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ঝুলে আছে এফটিপি অনুযায়ী ভারতের বাংলাদেশ সফরও। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সাদা বলের দুটি সিরিজ খেলার কথা ভারতের।
তবে শীতলতা নেমে আসা সম্পর্ক ঠিক করতে বিসিবিও বেশ নড়েচড়ে বসেছে। গেল মার্চ মাসে বিসিসিআইকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে তারা। যদিও বিসিবির পাঠানো সেই চিঠির কোনো উত্তর দেয়নি বিসিসিআই। যেখানে আসন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি খেলার অনুরোধ জানানো হয় বিসিবির পক্ষ থেকে।
এই প্রসঙ্গে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফিস সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো তো এফটিপির অংশ। গত বছর যে সিরিজ হওয়ার কথা ছিল, সে সিরিজটা এই বছর আনা হয়েছে। যত সময় যাবে, যেকোনো বোর্ডের সঙ্গে কিন্তু আমাদের যোগাযোগ প্রতিনিয়ত হয়। যেটা আমি ব্যক্তিগতভাবে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে একটা চিঠি ইস্যু করা হয়েছে (বিসিসিআইকে)। কিন্তু এটা যেহেতু সিইও অফিস বা সভাপতি অফিসের ইস্যু, এ বিষয়ে আসলে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই।’
২০২৫ সালের অক্টোবরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের।পূর্ব নির্ধারিত সূচি থাকলেও ব্যস্ত ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের জন্য এই সফর ভারত পিছিয়ে দেয় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যদিও ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, দুই দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্যই পিছিয়ে দেয়া হয় এই সফর, ভারতের উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে। শুধু তাই নয়, বাতিল হয়েছে বাংলাদেশ নারী দলের ভারত সফরও। সেই সফরে সাদা বলের দুটি সিরিজ খেলার কথা ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতিদের।
এর সাথে আগামী এশিয়া কাপের আয়োজক বাংলাদেশ। ভারতের সাথে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি না হলে ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়বে। কোনো কারণে ভারত যদি বাংলাদেশে এই টুর্নামেন্ট খেলতে রাজি না হয়, সেক্ষেত্রে আবারও এসিসিকে হাঁটতে হবে হাইব্রিড মডেলে। এমনটা হলে টুর্নামেন্টও সরে যেতে পারে বাংলাদেশকে। যদিও এর আগে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ভারতের বাংলাদেশে আসা জরুরি। অবশ্য এর পুরোটাই নির্ভর করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর।


