পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জেতায় রীতিমতো এক বিলাসিতা দেখাল বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নামল একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে। যে উদাহরণ নিকট অতীত ঘেঁটেও আপনি পাবেন না হয়তো। আগের ম্যাচ খেলা পারভেজ ইমন, তাওহিদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব ও মোস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। একাদশে এসেছেন তানজিদ হাসান তামিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ ও নাসুম আহমেদ।
এই পাঁচ বদলের মধ্যে তিন বোলারকে দেখার সুযোগ হলো তৃতীয় টি-টোয়েন্টির প্রথম ইনিংসে। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে দিলেন প্রথম দুই ম্যাচ সাইডবেঞ্চে বসে থাকা সাহিবজাদা ফারহান। ২৯ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। সাইম আইয়ুবের সাথে ৮২ রানের ঝড়ো জুটি। প্রথম দুই ম্যাচে এসবই মিস করেছে পাকিস্তান। ফারহান যেভাবে ব্যাট করছিলেন, তাতে পাকিস্তান ২০০ পেরিয়ে যেতে পারত অনায়াসে।
তবে সাইমকে ফিরিয়ে সেই ঝড় থামিয়েছেন দুই বছর পর টি-টোয়েন্টিতে ফেরা নাসুম আহমেদ। শরীফুল ইসলামের বলে উড়তে থাকা ফারহানের ক্যাচ ছেড়ে হতাশা বাড়িয়েছিলেন নাসুমই। পরে ফারহানের উইকেটটাও নিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনারই। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে টি-টোয়েন্টি খেলা এই স্পিনারের প্রত্যাবর্তনটা হলো মনে রাখার মতোই। বোলিং স্পেল ৪-০-২২-২।
প্রথম দুই ম্যাচে রান খরায় ভোগা পাকিস্তান এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে তুলেছে ৭ উইকেট ১৭৮। যেখানে এক ম্যাচ পর দলে ফেরা তাসকিন আহমেদ দিয়েছেন ৩৮। ডানহাতি এই পেসার উইকেট পেয়েছেন তিনটা, তবে রান দিয়েছেন ৩৮। চারটি চারের সাথে দুটি ছক্কা খেয়ে ইকোনমি রেট ছুঁয়েছে সাড়ে নয়!
শুরুটা দুর্দান্ত করলেও শেষটায় চরম হতাশ করেছেন প্রথম দুই ম্যাচে সাইডবেঞ্চে থাকা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার এই ৪-০-২৮-২ বোলিং ফিগার দেখে যে কেউ বলে দিতে পারেন, ‘খুব একটা খারাপ করেননি সাইফ।’ কিন্তু বোলিং স্পেলের ব্রেকডাউনে গেলে চোখে পড়বে ১৯-তম ওভারে দুই ছক্কায় তার ১৯ রান দেয়ার উদারতা। অথচ নিজের শেষ ওভারে বল হাতে নেয়ার আগে ৩ ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ৯ রান। যার মধ্যে ডট বলই ছিল ১৩টি।
সিরিজে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা মেহেদী হাসান মিরাজকে অধিনায়ক লিটন দাস বোলিংয়ে এনেছেন পাওয়ারপ্লের এক ওভার পরে। নিজের প্রথম ওভার করতে এসে ফারহানের কাছে খেয়েছেন টানা দুই ছক্কা। এরপর অবশ্য তাকে আর বল হাতে দেখা যায়নি। এক ম্যাচ পর একাদশে ফেরা তানজিদ হতাশ করেছেন ব্যাটিংয়ে নেমে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে সালমান মির্জার লাগফিয়ে ওঠা বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।


