অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশের নতুন সরকার। দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে বেশ তোড়জোড়।
এই তৎপরতার শুরুতেই বড় সাফল্য আসে গত ২ জুন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এটি দেশের জন্য একটি বড় অর্জন।
ঢাকায় ফেরার পর দুই দিন পরই তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে স্বাগত জানান। ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই বৈঠক প্রমাণ করে, তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এরপর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে মস্কো সফরে যান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি রাশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো জরুরি বিষয়গুলো উঠে আসে। চলতি বছরের শুরুতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাশিয়ার সঙ্গে এটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রস্তুতি চলছে। এই সফরের চূড়ান্ত আয়োজন ও আলোচনার বিষয়গুলো ঠিক করতে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এখন বেইজিংয়ে রয়েছেন।
চীন সফরের ঠিক আগে, ২১ ও ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে যাবেন। এশিয়ায় সম্পর্ক জোরদার করা এবং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সফরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ মনে করেন, একটি নতুন সরকারের জন্য এ ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ খুবই স্বাভাবিক এবং সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, নতুন সরকারের জন্য বিশ্বের বড় বড় শক্তি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।
তার মতে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য–যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তি ভারত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশ যেমন জাপান, তুরস্ক, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য জরুরি।
তিনি আরও বলেন, এই যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশগুলো একে অপরের কাজের ক্ষেত্রগুলো বুঝতে পারবে, পুরনো সম্পর্ক জোরদার করবে এবং একসঙ্গে কাজ করার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারবে।
সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ একটি বাস্তবমুখী পররাষ্ট্রনীতির অংশ। এর উদ্দেশ্য হলো পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন ও উদীয়মান প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানো।
ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বিশ্বের কাছে নতুন সরকারের নীতি ও লক্ষ্যগুলো তুলে ধরতে নয়াদিল্লি, বেইজিং, আঙ্কারা, ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশ সফর করেছেন।
কূটনীতিকদের মতে, বিশ্বজুড়ে এখন নানা ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিশ্বের সব বড় শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।


