ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, ‘এই রায় আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে জনতার ওপরে দমন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে এ রায় হয়ে থাকবে বিশেষ দৃষ্টান্ত।’
তিনি বলেন, এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়েছে। পূরণ হয়েছে মজলুম জনতার প্রত্যাশা।
সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা পর এ কথা বলেন ইউনুস আহমদ।
তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদ সরকার অনেক বিস্তৃত অপরাধচক্র গড়ে তুলেছিল। সেই চক্রের প্রধান সম্পর্কে মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব অপরাধীকেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
ইউনুস আহমদ বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে কাজ করবে বলেই আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাব, রায় ঘোষিত হওয়ার পরে এখন করণীয় সকল আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততার সঙ্গে রায় বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য আনন্দের দিন। এই দিনে আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করব।’
এর আগে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও এক অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে চার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এটি গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা প্রথম মামলা, যার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গত ১০ জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।


