উত্তরে জেঁকে বসেছে শীত    

উত্তরে জেঁকে বসেছে শীত    
শীতের কুয়াশায় ঢাকা উত্তরবঙ্গের একটি পাকা রাস্তা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কাঁপছে উত্তরবঙ্গ। দেশের উত্তরে সীমান্তঘেঁষা জেলা দিনাজপুর ছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা এবং মেহেরপুরেও শীতে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন।

গত কয়েক দিন ধরেই এসব জেলায় সকাল-সন্ধ্যা তাপমাত্রার তারতম্য বেশি অনুভূত হচ্ছে। মেঘলা আকাশ, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে এসব অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে।

দিনভর রোদের অভাবে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল, খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

জেলা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমছে। আকাশ মেঘলা থাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে গেছে। এতে শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে।

এসব জেলায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। অনেক স্থানে সামনের গাড়ি স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় চালকরা সতর্কভাবে গাড়ি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না মানুষ। অন্যদিকে কুয়াশার কারণে সড়কে যান চলাচলও তুলনামূলক কম।

আরও পড়ুন

তীব্র শীতের কারণে দিনাজপুর শহরের প্রধান সড়ক, স্টেশন রোড ও বাহাদুর বাজারসহ জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে মানুষের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

মেহেরপুরে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। ছবি: টাইমস

সোমবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, আগামী কয়েকদিন দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। সোমবারের পর থেকে রাতের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বরের শেষদিকে জেলার কিছু এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। বুধবার থেকে কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমলেও কনকনে ঠান্ডার মাত্রা বাড়তে পারে।

তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সেবামূলক সংগঠনকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। ভোর থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর, গাংনী ও মুজিবনগরসহ পুরো এলাকা। কুয়াশার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি, ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন চলাচল এবং সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।

এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত সপ্তাহের তুলনায় শিশুদের ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। বিশেষ করে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad