কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরএসও) সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীন পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা আঞ্জুমান পাড়া বাহারপ্যারা সীমান্তে নাফ নদীর তীরবর্তী একটি স্থানে পাঁচ থেকে ছয়জন আরএসও সদস্য অবস্থান করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। তারা গোলপাতা দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী চাউনিতে অবস্থান করছিল।
এ তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় আরএসও সদস্যরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। জবাবে বিজিবির টহল দল আত্মরক্ষার্থে এসএমজি থেকে পাঁচ রাউন্ড পাল্টা গুলি চালায়।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে আরএসও সদস্যরা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নাফ নদীর দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একটি জি-৩ ব্যাটল রাইফেল, তিনটি জি-৩ ম্যাগাজিন, তিনটি ফাইবার ম্যাগাজিন, ৫১৫ রাউন্ড জি-৩ গুলি, একটি ওয়াকিটকি সেট, চার হাজার পিস ইয়াবা, একটি মোবাইল ফোন, দুটি সিমকার্ড, দুটি লুঙ্গি, একটি টি-শার্ট, ১২ প্যাকেট সিগারেট, একটি পাউচ, দুটি ১০ টাকার নোট এবং দুটি আরএসও মনোগ্রাম উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বুধবার রাত ১২টার দিকে এক খুদে বার্তায় টাইমস অব বাংলাদেশকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযানের ঘটনা সত্য। তবে উদ্ধারকৃত মালামাল এবং অভিযানের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার জানানো হবে।’
উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজিবির অন্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।


