যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ঈদুল আজহার উৎসবে ইসরায়েলি হামলায় নারী ও পাঁচ শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাসেরও এক শীর্ষ যোদ্ধা ছিলেন। ওই হামলায় ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে উপত্যকার আল শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিবিস্যার খবরে বলা হয়, গাজা শহরের অন্তত ৭০ শতাংশ দখলে সেনাদের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এসব এলাকায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানান তিনি।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ত্যাগের উৎসব’ হিসেবে পরিচিত ঈদুল আজহার দিনটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমান উদযাপন করেন। স্থানীয় সময় বুধবার সেই উৎসবের দিনই গাজায় হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনেরা।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ভবনের ওপরের তলার জানালা দিয়ে আগুনের শিখা বের হচ্ছে। এ সময় আশপাশের লোকজন আহতদের, বিশেষ করে শিশুদের উদ্ধার করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে ছুটে যান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, উত্তর গাজায় হামাসের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে ওই হামলা হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলার লক্ষ্য ছিলেন হামাস ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ইমাদ আসলিম। হামলায় তিনি তার কিশোরী মেয়ে ইসরার সঙ্গে নিহত হন।
গাজা শহরের এই হামলার একদিন আগেই হামাসের সামরিক শাখার নতুন প্রধান মোহাম্মদ ওদেহ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় তার স্ত্রী ও দুই ছেলেও মারা যান।
বৃহস্পতিবার এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা এখন হামাসকে চারদিক থেকে চেপে ধরছি। বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগে ছিল ৫০ শতাংশ, এখন হয়েছে ৬০ শতাংশ। আমি নির্দেশ দিয়েছি, এটি আরও বাড়িয়ে……’ এ সময় জনতার ভিড় থেকে কেউ বলে ওঠেন, ‘১০০ শতাংশ।’
জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ধাপে ধাপে এগোই। আগে ৭০ শতাংশে যাই। আমরা সব দিক থেকে চাপ দিচ্ছি, বাকি অংশও সামলে নেব।’
ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর এই ঘোষণা ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের পরোক্ষ আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় পড়ে আছে।
২০ দফার শান্তি প্রস্তাবের পরের ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা স্থবির হয়ে আছে।
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘও এই তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।
বুধবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, তার দেশ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে নির্মূল করার অঙ্গীকার করেছে।
তিনি ব্লেন, ‘হামাস গাজায় বেসামরিক বা সামরিক কোনোভাবেই শাসন করতে পারবে না। গাজা থেকে “স্বেচ্ছায় অভিবাসনের পরিকল্পনা” যথাসময়ে এবং যথাযথ উপায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’


