আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত সংলাপে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানাতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেখানে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক জোট সহযোগীরাও থাকছে।
সংলাপে জাপা ও আওয়ামী লীগের শরিকদের ডাকা হবে কি না- এ নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে ঠিক সে সময়েই এমন সিদ্ধান্ত জানা গেল। সম্প্রতি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বা অন্তর্বর্তী সরকারের কোনও আলোচনায় ডাকা হয়নি এসব দলকে।
ইসির মতে, নিবন্ধিত কোনো দলকে বাদ দিলে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সে কারণে সব নিবন্ধিত দলকে সংলাপে ডাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র বলছে, ১৩ নভেম্বর থেকে সংলাপ শুরুর একটি খসড়া সূচি গণসংযোগ দপ্তর প্রস্তুত করেছে। তালিকায় জাপা ও আওয়ামী লীগের সাবেক জোট–শরিক দলগুলোর নামও রয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের সময় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সরকার গেজেট প্রকাশ করলে গত মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে ইসি।
বর্তমানে ইসিতে ৫৩টি দল নিবন্ধিত। আরও তিনটি দল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে চব্বিশের গণআন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সময় কম থাকায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে দলগুলোর সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করা সম্ভব হবে না। ১৩ নভেম্বরই আলোচনা শুরুর সম্ভাব্য দিন, যদিও তা চূড়ান্ত না।
কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিদিন সকাল ও বিকালে দুটি করে সংলাপ অধিবেশন হবে। সংলাপে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের জোটদেরও ডাকা হবে। নিবন্ধিত থাকায়, কমিশনকে তাদের অবশ্যই অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। সরকার যদি কাউকে আনুষ্ঠানিক নিষিদ্ধ না করে, তাহলে ইসি তাকে বর্জন করতে পারে না।
আলোচনায় যেন বিশৃঙ্খলা না হয়, তা নিশ্চিতে মতাদর্শগতভাবে কাছাকাছি দলগুলোকে এক পর্বে ডাকা হবে। যে তিনটি দলের নিবন্ধন চূড়ান্ত হলেও আপত্তি বা শুনানির জট রয়েছে, তাদের সংলাপে ডাকা হবে শেষ দিনে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংলাপে নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা থাকছে না। দলগুলোর মতামত, সুপারিশ ও প্রস্তুতি বিষয়ক পরামর্শ নেওয়া হবে। ইসি তার নির্বাচনী প্রস্তুতির পরিকল্পনাও তুলে ধরবে সংলাপে।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচনী আচরণবিধির কপি দেওয়া হবে, যা নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল। দলগুলোর পক্ষ থেকে সে বিষয়ে সংশোধনী বা আপত্তি প্রস্তাব এলে তা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, ‘১৩ থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে সংলাপ শুরুর পরিকল্পনা আছে, তবে কমিশন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।’
জাপাকে আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খসড়া তালিকায় সব নিবন্ধিত দলই আছে।’
ইসির সিনিয়র সচিব আক্তার আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘দলীয় ও প্রার্থীর আচরণবিধি নিয়ে গেজেটে প্রকাশের পরই সংলাপের সময়সূচি চূড়ান্ত হবে। গেজেট সোমবার চূড়ান্ত হতে পারে।’
জাপা ও আওয়ামী লীগের জোট শরিকদের আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি কমিশনের সামনে উপস্থাপন করা হবে। নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
এর আগে ইসি নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, নারী সংগঠন ও গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার পর্ব শেষ করেছে। অক্টোবরেই রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে সংলাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দল ও পর্যবেক্ষক নিবন্ধন–সংক্রান্ত জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়।


