আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬৬টি দেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার রাতে ইসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আশাদুল হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ৭৩টি স্থানীয় সংস্থার প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল ইসি। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৬৬ সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ইসি জানায়, নিবন্ধন পাওয়া সংস্থাগুলো নির্বাচনকালীন ভোটগ্রহণ, পরিবেশ, প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩ সালের নীতিমালা বাতিল ও তৎকালীন ৯৬টি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করে নতুন নীতিমালা জারি করেন নাসির উদ্দীন কমিশন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৯৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধন বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়।
আগের পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পর্যবেক্ষক নিবন্ধন প্রথা শুরু করে ইসি। সে সময় ১৩৮টি সংস্থা নিবন্ধন পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক ছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ২০১৪ সালে ৩৫টি সংস্থার ৮ হাজার ৮৭৪ জন পর্যবেক্ষক ভোট দেখেছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৮টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮১টি দেশি সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।
সবশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৯৬টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮০টির মতো সংস্থার ২০ হাজার ২৫৬ জন ভোট দেখেছেন।
নিবন্ধন পাওয়া সংস্থাগুলো
পাথওয়ে, পল্লীশ্রী, রিসডা-বাংলাদেশ, রশ্মি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (আরএইচডিও), ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (আইসিডিএস), বাকেরগঞ্জ ফোরাম, একটিভ এইড ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন সাথী, বকুলতলী মহিলা সংসদ (বিএমএস), অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম ওয়েলফেয়ার এজেন্সিস ইন বাংলাদেশ (এএমডব্লিউএবি), হোপ, অধিকার, আরপিও ফাউন্ডেশন, অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (উষা), সমাজ উন্নয়ন পল্লী সংস্থা (এসডিআরএস), হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস), সংগতি সমাজ কল্যাণ সংস্থা, অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিস ইন বাংলাদেশ (এডাব), লাইট হাউস, রূপান্তর, সোসাইটি ফর ব্রাইট সোশ্যাল সার্ভিসেস, আবদুল মোমেন খান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, গণউন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে), চাঁদ মানব উন্নয়ন সংস্থা, ব্যুরো অব সোশ্যাল ওয়াচ, অন্তরঙ্গ সমাজ কল্যাণ সংস্থা (এএসকেএস), প্রফেশনাল রিসার্স অ্যাডভোকেসি ট্রেনিং অ্যাকশন ইয়ার্ড (প্রত্যয়), মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (মওসুস)।
এ ছাড়া রয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইকোলোজিকাল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (বিএসইআরআই), আশ্রয় ফাউন্ডেশন, কর্ম উন্নয়ন কেন্দ্র (ডব্লিউডিসি), আলোকিত সমাজ কল্যাণ সংস্থা, বিচরণ কল্যাণ সংস্থা, ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ, অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি), সেবা ফাউন্ডেশন, রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি ফর বাংলাদেশ (র্যাক-বাংলাদেশ), মোক্রেসিওয়াচ, প্রত্যয় সোশ্যাল ফাউন্ডেশন, ভলান্টারি রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (ডিআরডিএস), রুরাল অ্যান্ড আরবান পুওর’স পার্টনার ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (ইউআরপিএসএ), অ্যাসোসিয়েশন ফর সোসিও ইকোনোমিক অ্যাডভান্সমেন্ট (এসিয়া), চারু ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিডিএ), স্কোপ, পার্টিসিপেটরি অ্যাডভান্সমেন্ট সোশ্যাল সার্ভিস (পাস), কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (কার্ড), সেন্টার ফর রাইটস্ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (সিআরডি), ফ্যাসিলিটিস ফর এগ্রিকালচার রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (এফএআরই)।
তালিকায় আরও রয়েছে অগ্রগতি সেবা সংস্থা (অসেস), দিনাজপুর পল্লী উন্নয়ন প্রচেষ্টা (ডিপিইউপি), সমাহার– মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, বিয়ান মনি সোসাইটি (বিএমএস), গরিব উন্নয়ন সংস্থা (জিইউএস), সচেতন নাগরিক সোসাইটি, দীপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থা (ডিএমইউএস), নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস), ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, মানব সহায়ক কেন্দ্র (এমএসকে), রুরাল ভিশন (আরডি), গ্রামীণ ইকোনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (জিসা), মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন, ডাক্তারবাড়ি সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (ডিএডব্লিউএফ), ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ ফর সোশিও ইকনোমিক অ্যাকটিভিটি (ইযিয়া), মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন এবং দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা।


