রাজধানীর গুলশানে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে কোটি টাকা চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গ্রেপ্তার আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদের বাসা থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকার চারটি চেক, এফডিআরের নথিসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বুধবার এ তথ্য জানান।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তালেবুর রহমান বলেন, ‘গুলশানে সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে রিয়াদের বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন।’
গত ২৬ জুলাই রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাড়িতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আনতে গেলে গ্রেপ্তার করা হয় ৫ জনকে, তারা সকলেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সিদ্দিক আবু জাফর। এ মামলায় গ্রেপ্তার করা আসামিরা হলেন- আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ, কাজী গৌরব অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, মো. ইব্রাহিম হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।
পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রিয়াদের দেওয়া তথ্য অনুসারে তল্লাশি করে তার বাসায়। সোমবার রাতে রিয়াদের বাসায় অভিযানে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার হয়। সে সময় প্রায় ২০ লাখ টাকার এফডিআর নথি উদ্ধার হয়েছে, যা যাচাই করছে পুলিশ।
রিয়াদের বাসা থেকে উদ্ধার করা সোয়া দুই কোটি টাকার চারটি চেক রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে নেওয়া বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ট্রেড জোনের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদের সই রয়েছে চেকে।
চাঁদাবাজির আলোচিত এ ঘটনার পর সাংগঠনিক নীতিমালা ও শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম ও সাদাবকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সকল কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে সুলাইমান রিয়াদের বিরুদ্ধে। গুলশানের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সেগুলো যাচাই করছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হতে পারে বলে জানান এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।


