গাজামুখী ‘কনসায়েন্স’ নামক জাহাজে ‘রেড জোনে’ পৌঁছানোর পর ইসরায়েলের হাতে আটক হয়েছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।
ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি শাহিদুল আলম, বাংলাদেশি একজন আলোকচিত্রী এবং লেখক। সাগরে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে এবং আমি ইসরায়েলের দখলদার বাহিনীর হাতে অপহৃত হয়েছি।’
যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সক্রিয় সহযোগিতা ও সহায়তায় ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার সব সহযোদ্ধা এবং বন্ধুদের কাছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে ইসরায়েলের ‘রেড জোনে’ পৌঁছায় জাহাজ ‘কনসায়েন্স’। ওই জাহাজে ৯৩ জন সাংবাদিক, ডাক্তার ও অ্যাক্টিভিস্ট ছিলেন। এরপরই আরও তিনটি ছোট ছোট নৌকা থামিয়ে দেয় ইসরায়েলি সেনারা।
এদিকে, ‘কনসায়েন্স’ জাহাজের আটকের খবর নিশ্চিত করেছে আল-জাজিরা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক্স পোস্টের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, ‘ফ্লোটিলায়’ অভিযান চালানো হয়েছে।
পোস্টে মন্ত্রণালয় লিখেছে, ‘নৌ অবরোধ ভেঙে যুদ্ধঅঞ্চলে প্রবেশের আরেকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা, যদিও তারা কিছুই অর্জন করতে পারেনি।’
আরোহীদের নিয়ে পোস্টে বলা হয়েছে, ‘নৌযান ও আরোহীদের ইসরায়েলি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আরোহীদের সবাই নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। দ্রুত তাদের ফেরত পাঠানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইসরায়েলের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, তিনি ফ্লোটিলায় অংশগ্রহণকারী মালয়েশিয়ান আন্দোলনকারীদের মুক্তি দাবি করেন।

সমুদ্রপথে গাজার জন্য মানবিক সাহায্য পাঠাতে যাত্রা শুরু করে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নৌবহর। এই বহরটিকে অনুসরণ করছিল ‘কনসায়েন্স’ জাহাজের চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের দল।
গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনো থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথম বহর। ধীরে ধীরে এতে যুক্ত হয় নতুন নতুন নৌযান। সবশেষ এই বহরে যুক্ত হয়েছিল বিভিন্ন দেশের ৪০টি নৌযান। যেগুলোয় গাজার জন্য সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিলেন অন্তত ৪৪ দেশের ৫০০ মানুষ।
নৌযানগুলো যখন গাজা থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে, সেসময় তাতে বাধা দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। বহরের সবগুলো নৌকা থামিয়ে তারা আটক করে অধিকারকর্মীদের।
তাদের ওপর করা হয় নির্যাতন। সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক করা ৪৭৯ আরোহীর মধ্যে ৩৪১ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। বাকিদের আটক রাখা হয় ইসরায়েলে। সুমুদ ফ্লোটিলার সঙ্গেই গাজা অভিমুখে যাচ্ছিল জাহাজ ‘কনসায়েন্স’।

এর আগের আরেক পোস্টে শহিদুল জানিয়েছেন, গাজামুখী ‘কনসায়েন্স’ নামক জাহাজ বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে ইসরায়েলের ‘রেড জোনে’ পৌঁছেছে।
গাজামুখী নৌবহর তীরের কাছাকাছি যেতেই তারা একঝাঁক চড়ুইয়ের সাক্ষাৎ পান। এর একটি পাখি উড়ে এসে শহিদুলদের জাহাজের রেলিঙে বসেছে, এমন একটি ভিডিও ক্লিপ দিয়ে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন আবেগঘন নোট।
শহিদুল জানিয়েছেন, ‘হাজার ম্যাডলিন’ নামক ছোট ও ধীর গতির নৌকাগুলো তাদের অনুসরণ করছে বলে ‘কনসায়েন্স’ জাহাজের গতি কিছু ধীর; তবে তারা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ চেয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।


