কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় গহীন পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, মর্টারের শেল, হ্যান্ড গ্রেনেড ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক জসীম উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানতে পারি, হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড় এলাকায় একটি সশস্ত্র ডাকাত দল অবস্থান করছে।
এমন তথ্য পেয়ে অধিনায়কের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে তিন স্তরের কৌশলগত অবস্থান নেন।
এর মধ্যে একটি দল সীমান্ত এলাকায়, একটি দল রঙ্গীখালী পাহাড়ী এলাকায় এবং অপর একটি দল উপকূলীয় এলাকায় বাহারছড়া এলাকায় অবস্থান করেন।
পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে ডাকাত দলটি পাহাড়ে অবস্থানরত অবস্থায় বিজিবির নজরে আসে। সন্দেহজনক তৎপরতা লক্ষ্য করার পর বিজিবি সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে ফেললে ডাকাত দলটি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গুলিবর্ষণ করে এবং বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।
এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী আরেকটি পাহাড়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিজিবি টহল দল ওই অস্থায়ী ঘাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।
উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি জি-৩ রাইফেল, জি-৩ রাইফেলের অংশবিশেষ ও একটি ম্যাগাজিন, চারটি ওয়ান শুটার গান, একটি এলজি শুটার গান, একটি এমএ-১ (ভ্যারিয়েন্ট এমকে-২), একটি একনলা গাদা বন্দুক (লং ব্যারেল), দুইটি সিলিং, তিনটি আরজেস হ্যান্ড গ্রেনেড (লিভারসহ), একটি মর্টারের গোলা, ১৭ কেজি গান পাউডার, ১০টি হাতবোমা তৈরির উপকরণ, আটটি চাপাতি, পাঁচটি ছুরি, একটি কাঁচি এবং মোট ৩০২ রাউন্ড গুলি।
এ ছাড়াও বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহৃত খালি খোসা উদ্ধার করা হয় ৫৪ রাউন্ড।
প্রাথমিক তদন্তে বিজিবি জানিয়েছে, এই সশস্ত্র ডাকাত দলটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজ করে আসছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সবসময় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, চলতি বছরের ১ মার্চ পতাকা উত্তোলনের পর থেকে বিজিবি চোরাচালান নিরোধ ও অস্ত্র উদ্ধারে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে।
এ পর্যন্ত ব্যাটালিয়নটি প্রায় ১১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার ৩৯ লাখ ৮২ হাজার ৬০ পিস ইয়াবা, ২৫ দশমিক ৪৬ কেজি গাঁজা, বাংলা মদ, বিয়ার ও ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে ৮৮ জন আসামিকে আটক করেছে।
এর পাশাপাশি ওয়ান শুটার গান, বিদেশি রিভলভার, একনলা বন্দুক, হ্যান্ড গ্রেনেড, মর্টার শেল, একে-৪৭, ইউজিসহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করে পূর্বে আরও তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।


