দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমর শহরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবৈধভাবে আবাসিক ঘরবাড়ির ওপর চালানো কামান হামলায় ‘সাদা ফসফরাস‘ ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ)।
সোমবার এইচআরডব্লিউ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, গত মঙ্গলবার এই হামলা চালানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আটটি ছবি যাচাই ও অবস্থান নির্ণয় করেছে। যেখানে শহরের একটি আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবানন বিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাদা ফসফরাসের এই অবৈধ ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে। সাদা ফসফরাসের দাহ্য ক্ষমতা মৃত্যু বা এমন নিষ্ঠুর ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে, যা আজীবন যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।“
সাদা ফসফরাস অনেকটা মোমের মতো নরম প্রায় বর্ণহীন অত্যন্ত বিষাক্ত ও দাহ্য পদার্থ। যা অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসতেই জ্বলে ওঠে।
এটি বাড়িঘর, কৃষিজমি এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, জনবহুল এলাকায় ‘এয়ারবার্স্ট‘ (বাতাসে বিস্ফোরিত) সাদা ফসফরাস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি, গত মঙ্গলবার সকাল ৫.২৭ মিনিটে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচায় আদ্রেই একটি নির্দেশ জারি করেন। সেখানে ইয়োহমর এবং আরও ৫০টি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে বাড়ি ছেড়ে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে খোলা জায়গায় সরে যেতে বলা হয়। এরপর দুপুর ১২.১২ মিনিটে তিনি একই নির্দেশ ফের প্রচার করেন।
তবে সেদিন সাদা ফসফরাস ব্যবহারের ফলে কোনো ব্যক্তি আহত হয়েছে কি না, তা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নিশ্চিত করতে পারেনি।
সংস্থাটি ইসরায়েলকে জনবহুল এলাকায় আর্টিলারি–ডেলিভারড সাদা ফসফরাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো দেশগুলোকে ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রয় স্থগিত করার এবং গুরুতর অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও আহ্বান জানিয়েছে।


