ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ভেঙে পড়া সেবা কাঠামো দ্রুততম সময়ে সচল করার প্রত্যয় জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার দুপুরে নগর ভবনে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালামের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
সিটি নির্বাচন ও মনোনয়ন নিয়ে গুঞ্জন
তবে সৌজন্য বৈঠক হলেও প্রতিমন্ত্রী ও প্রশাসকের এই বৈঠককে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেরুকরণ হিসাবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ইশরাক হোসেন ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে পরাজিত হলেও আওয়ামী লীগ পতনের পর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এ সময় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চেয়েও তখনকার স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার অনিচ্ছায় সেই দায়িত্ব পাননি।
ইশরাক হোসেন পরে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ বিষযক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি নিজের এক ফেসবুক পোস্টে আবারও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির অন্যতম সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতা আবদুস সালাম সংসদ সদস্য পদে দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি। বিএনপি সরকার গঠনের পর তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।
প্রশাসকের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকের পর সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত তার পোস্টগুলো ব্যক্তিগত মতামত মাত্র। দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয় তবেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন ও স্বচ্ছতার দাবি
সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি রাজনৈতিক দলের অস্বাভাবিক ভোটপ্রাপ্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, তার আসনে অতীতে একটি দল সর্বোচ্চ তিন হাজার ভোট পেলেও এবার তাদের প্রাপ্ত ভোট কল্পনার বাইরে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোটার তালিকায় কোনো অনিয়ম বা ডুপ্লিকেশন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দ্রুত তালিকা সংশোধনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সৌজন্য বৈঠকে যত কথা
ডিএসসিসি’র প্রশাসক আব্দুস সালামের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নগরীর স্থবির হয়ে পড়া সেবা খাতগুলোকে আবার কার্যকর করা হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসকের সঙ্গে তার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নগরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর তিনি জোর দেন।


