আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আরও জোরালো হামলা চালাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে তাদের লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ঠিক কতদিন লাগতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, জনগণের যুদ্ধবিরোধী মনোভাব, কমতে থাকা জনপ্রিয়তা এবং মিত্রদের চাপের মুখে দেওয়া এই ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এরইমধ্যে ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতাকে ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।’
১৯ মিনিটের ওই ভাষণে তিনি বলেন, ‘খুব দ্রুতই আমরা সব লক্ষ্য পূরণ করব। আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব এবং তাদের একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করব।’
ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতৃত্ব নিতে পারে এমন একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে তার প্রশাসনের আলোচনা চলছে। এই গোষ্ঠী আগের তুলনায় কম চরমপন্থী ও বেশি যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করেন তিনি। তবে তাদের সঙ্গেও দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আরও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ এখন পঞ্চম সপ্তাহে চলছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের অনেক যুদ্ধের তুলনায় অনেক ছোট। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ৩২ দিনের অভিযানে “দ্রুত, যুক্তিযুক্ত এবং ব্যাপক বিজয়” অর্জন করেছে এবং ইরান এখন আর বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘যেসব মিত্র দেশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল, তাদেরই এটি আবার চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সহায়তা করবে না।’

দেশের ভেতরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির জন্য পুরোপুরি দায়ী ইরান। তারা পার্শ্ববর্তী দেশের বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে অযৌক্তিক হামলা চালিয়েছে, যেগুলোর এই যুদ্ধে কোনো সম্পর্ক নেই।’
ইরান যুদ্ধের নানা বিষয়ে আলোকপাত করলেও ভাষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান অবস্থা এবং বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি।
এমনকি ট্রাম্পের বক্তব্যে দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা না থাকায় হতাশা জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরাও। তার ভাষণের পরপরই বিশ্বের শেয়ারবাজারগুলোতে বড় পতন ঘটে, ডলারের মান বেড়ে যায় এবং তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পায়।
এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা। তারা জানিয়েছে, এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘উল্লেখযোগ্য, বৈশ্বিক এবং অসম প্রভাব’ ফেলছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তারা সমন্বিত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের সূচনা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সেনা, বিমান ও নৌঘাঁটি থাকায় সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরান। একই সঙ্গে লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গেও ফের যুদ্ধে জড়ায় ইসরায়েল।
চলমান সংঘাতে এরইমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। হাজার হাজার আহতের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।


