রাজনৈতিক মতাদর্শের সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা। মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো এক চিঠিতে এ আহ্বান জানান মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির পাঁচ সদস্য।
তারা হলেন- হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সিডনি কামলাগার-ডোভ, কংগ্রেসম্যান জুলি জনসন ও থমাস আর সুওজি।
‘হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চিঠিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংকটে রাষ্ট্রপরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও তার স্বদিচ্ছাকে স্বাগত জানান মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
চিঠিতে বলা হয়, ‘আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের জন্য অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের জনগণ যেন ব্যালটের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মতামত দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করাও জরুরি বলে মনে করে মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স।
উদ্বেগ জানিয়ে আইনপ্রণেতারা চিঠিতে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা হলে বা আগের বিতর্কিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফের চালু করা হলে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরসহ বহু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে গণ আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আনুমানিক এক হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি অপরাধ ও হত্যার প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রতিশোধের ধারাবাহিকতা নয় বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হওয়া উচিত বলে মনে করে হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা উদ্বিগ্ন, আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধ বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত- মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা ভবিষ্যতে নির্বাচিত কোনো সরকার একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলেও আশা করেন আইনপ্রণেতারা।
‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’ উল্লেখ করে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের পাশপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে সমর্থন দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয় চিঠিতে।


