যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সব শর্ত মেনে নিয়ে ইরান যদি শান্তি চুক্তিতে রাজি হয়, তাহলে তিনি চুক্তি সই করতে পাকিস্তান সফর করতে পারেন। তার দাবি, শান্তি চুক্তির প্রায় সব বিষয়েই তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। যদি ইসলামাবাদে চুক্তি সই হয়, আমি যেতে পারি। তারা আমাকে সেখানে চায়।’
এর আগে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় পাকিস্তান ও দেশটির নেতৃত্বকে ‘অসাধারণ, সদয় ও অত্যন্ত দক্ষ’ বলে প্রশংসা করেছেন।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, আগামী সপ্তাহে শেষ হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদও বাড়ানো হতে পারে। অবশ্য সময়মতো শান্তি চুক্তি হলে তা প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘গত বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার পর সরিয়ে রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে রাজি হয়েছে।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তির চেষ্টা করছেন, যার আওতায় তেহরান পারমাণবিক সক্ষমতা ত্যাগ করবে এবং এর বিনিময়ে তাদের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানো হবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক তেহরান সফরই ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এক মার্কিন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেন, ‘সব পক্ষই আশা করছে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই অন্তত একটি প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত করা যাবে।’
এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকা পাকিস্তান জানিয়েছিল, দুই পক্ষের মধ্যে শিগগিরই ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা আয়োজনের আশা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন রোববারের আগেই দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে পারেন দুই দেশেরর প্রতিনিধিরা।
পাকিস্তান সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে, তবে এ বিষয়ে তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে পাকিস্তান খোলামেলা যোগাযোগ রাখছে।’
এদিকে, সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনা সামনে রেখে এরইমধ্যে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রথম দফার আলোচনায় ব্যবহৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনাই দ্বিতীয় দফার আলোচনার ক্ষেত্রে মেনে চলার কথা রয়েছে।
ইসলামাবাদে প্রায় ছয় হাজার পুলিশ সদস্য, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী, রেঞ্জার ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় মোতায়েন থাকবে। রাওয়ালপিন্ডিতে পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে কড়া নজরদারি, অতিরিক্ত নিরাপত্তা এবং চলাচলে অস্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতি চললেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, ‘আলোচনা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন আবার সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত।’
ইরানের নতুন নেতৃত্বকে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রয়োজনে আবার যুদ্ধ শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’


