পাকিস্তানে হাজতে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার দাবিতে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেয় তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
এই বিক্ষোভের আগে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, কোথাও চার বা তার বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না।
কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পিটিআই নেতাকর্মীদের বিক্ষোভে নামার অটল সিদ্ধান্তের মধ্যে মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের বোন উজমা খানমকে তার সঙ্গে দেখা করতে দিয়েছে।
পাকিস্তানের দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, উজমা খানম ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে জেলের ভেতরে গিয়েছিলেন। আর সে সময় তার সঙ্গে আসা বেশ কয়েকজন পিটিআই সমর্থক আদিয়ালা জেলের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন।
পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এদিন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এবং আদিয়ালা জেলের বাইরে জড়ো হন।
দলটির অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবার এবং দলের কোনো নেতাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে ইমরানের শারীরিক অবস্থা এবং বর্তমান অবস্থান নিয়ে পরিবার ও দল থেকে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি তিনি বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়েও সংশয় দেখা দেয়। ইমরান খানের ছেলেরাও বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পিটিআই বলছে, গত মার্চ মাসে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, সপ্তাহে দুদিন জেলে গিয়ে ইমরানের সঙ্গে দেখা করা যাবে। কিন্তু সেই নির্দেশ লঙ্ঘিত হচ্ছে। আদালতও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
তাই ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এবং আদিয়ালা জেলের বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করে ইমরানের দল। কয়েক সপ্তাহ ধরে ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অবশেষে তার বোন উজমাকে দেখা করতে দেওয়া হয়েছে বলে খবর এসেছে।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী ইমরান। ইমরানের সঙ্গে দেথা করার আর্জি জানিয়ে ইসলামাবাদ হাই কোর্টেও গেছেন তার বোন আলিমা খান।
ইমরানের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুর্নীতির এক মামলায় তাকে ও তার স্ত্রীকে যথাক্রমে ১৪ ও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ইমরান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছেন।


