বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
একই সঙ্গে অডিট অধিদপ্তর প্রকল্পটিতে বড় ধরনের আর্থিক অসংগতি নিয়ে আপত্তি তুলেছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে রয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংসদকে তিনি জানান, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এই যন্ত্রগুলো কেনা হয়েছিল এবং গত বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। তবে প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন বা পিসিআর গত মে মাসে আইএমইডিতে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত তার মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। অডিট অধিদপ্তরের উত্থাপন করা বিভিন্ন আর্থিক আপত্তিও এখনো নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের এক সভায় ইভিএম নিয়ে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীতে জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নির্বাচনেই আর ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বর্তমানে অকেজো বা অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা এই যন্ত্রগুলো বিভিন্ন গোডাউন ও বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) হেফাজতে রাখা হয়েছে।
অধিবেশনে জনগণের করের টাকার অপচয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানানো হলে সংসদকে জানানো হয়, পুরো বিষয়টি নিয়ে দুদকের তদন্ত এবং অডিট আপত্তির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।


