ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের সিদোয়ারজো এলাকায় একটি ইসলামি বোর্ডিং স্কুল ধসে অন্তত তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আহত ১০১ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের পর আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ধংসস্তুপের নিচে এখনও বহু শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার বিকাল ৩টার দিকে ‘আল-খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুল’ ভবনটি ধসে পড়ে। এ সময় শতবর্ষী ইসলামিক শিক্ষার ওই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিতে (পেসানত্রেন) শিক্ষার্থীরা নামাজের জন্য জড়ো হচ্ছিল।
স্কুলটির বেশিরভাগই ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছেলে শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার সময় স্কুল ভবনের চতুর্থ তলায় কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। হঠাৎ করেই ভবনের ভিত্তি স্তম্ভ ভেঙে পড়লে পুরো ভবনটি ধসে পড়ে। এতে বহু ছাত্র ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ৬৫ জন নিখোঁজ থাকার কথা শোনা গেলেও, অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এ পর্যন্ত ৩৮ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ থাকার তথ্য তারা নিশ্চিত করতে পেরেছেন এবং তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে কান্না এবং সাহায্যের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের ধারণা এখনও অনেকে জীবিত আছেন। আমরা কান্নার শব্দ পেয়েছি। আপা পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার কাজে কেউ যেন আরও আহত না হয় সে চেষ্টা চলছে।’

কিছু আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের কাছে অক্সিজেন, শুকনা খাবার এবং পানি পাঠানো গেছে বলেও জানান উদ্ধারকর্মীরা।
এদিকে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে ১১ জন শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৯১ জন নিজদের চেষ্টায় ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। তাদের সবাইকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মূলত দুই তলা বিশিষ্ট স্কুল ভবনটির ভিত্তি ও কাঠামোও বেশ দুর্বল ছিল। তার ওপরেই আরও দুই তলা নির্মাণকাজ চলছিল। ভবনের ভিত্তি এই অতিরিক্ত চাপ সহ্য করার উপযুক্ত ছিল না। এতেই দুর্ঘটনা ঘটে।
তদন্ত কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, নির্মাণের সময় কোনো ধরনের কারিগরি তদারকি ছিল না এবং নিরাপত্তাবিধিও অনুসরণ করা হয়নি। শিশুদের প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ কাজ চলাকালে পুরো ভবন বন্ধ রাখা উচিত। এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। বরং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠ কার্যক্রম চলছিল।
এক মাসের ব্যবধানে এটি ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় বড় ধরনের ভবন ধসের ঘটনা। এর আগে, চলতি মাসের শুরুতেই দেশটির পশ্চিম জাভার বোগর জেলায় একটি কোরআন তিলাওয়াত অনুষ্ঠানের সময় কমিউনিটি হল ধসে পড়ে তিনজন নিহত হয়। এ সময় আহত হন বহু মানুষ।


