দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে নাগরিককেন্দ্রিক একীভূত নেটওয়ার্কে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নাগরিককে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য, যেখানে প্রতিরোধমূলক ও স্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, প্রস্তাবিত মডেলের আওতায় দুই মাস পর পর নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য প্যাকেজের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা, শিশুদের পুষ্টি অবস্থা এবং নারীদের জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যকে স্বাস্থ্যসেবার মূল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিংকে আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে অন্তর্ভুক্ত করছি, এটি প্রথমবারের মতো করা হচ্ছে।’
নারীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভধারণ দ্রুত শনাক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই খুব দ্রুত গর্ভধারণ শনাক্ত করতে, যাতে তাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবার আওতায় আনা যায়।’
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় তিন স্তরের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম স্তর হবে গ্রাম থেকে ইউনিয়ন এবং ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায়ে রোগী পরিবহনের জন্য একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা। দ্বিতীয় স্তর উপজেলা ও জেলা সংযোগে উন্নত অ্যাম্বুলেন্স এবং তৃতীয় স্তর হবে নিবিড় পরিচর্যা সুবিধাসম্পন্ন বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স হবে।’
তিনি জানান, এই ব্যবস্থার নকশা প্রণয়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ চলছে এবং এটি কম খরচের বৈদ্যুতিক অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিনি স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র, একীভূত রোগী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং রেফারেল নেটওয়ার্ক চালুর পরিকল্পনার কথা বলেন। পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের একীভূত কাঠামোর আওতায় আনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গ্রামীণ ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্র চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকবে এবং সেখানে একজন পূর্ণকালীন ল্যাব টেকনিশিয়ান থাকবে… একটা ছোট ফার্মেসি থাকবে।’
পাইলট প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথম ধাপে খুলনা, সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী, নোয়াখালী ও বগুড়া জেলায় কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পাইলট প্রকল্প শুরু হবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই। আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক স্থাপন করব। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো আলাদা কাঠামো হিসেবে থাকবে না, বরং প্রস্তাবিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
জরুরি সেবা ব্যবস্থাপনায় জেলা পর্যায়ের কল সেন্টারের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স সমন্বয় এবং রোগীকে দ্রুত উপযুক্ত হাসপাতালে পাঠানোর আগে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এই কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রতিরোধমূলক ও কমিউনিটি ভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য সরকারের রয়েছে বলে তিনি জানান।


