ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবারের ওই হামলায় দুটি শপিং সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় আঘাত হানায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
শপিং সেন্টার দুটির উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে এবং অন্যটি পার্শ্ববর্তী রিভনে অঞ্চলে অবস্থিত। সুমির জরুরি সেবা বিভাগের প্রকাশিত ছবিতে বিপণিবিতানটির মেঝেতে রক্ত ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, রিভনে অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দ্র কোভাল জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের একটি বড় বিপণিবিতানসহ কয়েকটি স্থানে ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন।
খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভের বরাতে রয়টার্স জানায়, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ শহরের তিনটি জেলায় হামলায় ৭১ বছর বয়সী এক নারী ও ৫৮ বছর বয়সী এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১২ জন।
এর আগে তিনি নিহতের সংখ্যা তিন বলে জানিয়েছিলেন। তবে পরে সংশোধিত হিসাবে দুজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।
কিয়েভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাশিয়ার আরও কয়েক দফা হামলায় ওই অঞ্চলে নয়জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া দোনেৎস্ক অঞ্চলের সীমান্তবর্তী শহর ক্রামাতোরস্কে হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে আলাদা হামলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী ইউক্রেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভোলিন অঞ্চলে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় রুশ ড্রোনের হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।
ভোলিন অঞ্চলের গভর্নর রোমান রোমানিউক জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে ওই অঞ্চলের প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষ সাময়িকভাবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে তাদের মধ্যে এক লাখ মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়। শুক্রবার দিনভর ভোলিন অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলা অব্যাহত ছিল বলেও জানান তিনি।
ভোলিনের প্রশাসনিক রাজধানী লুৎস্ক শহরের মেয়র আন্দ্রি রাজুমোভস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন, শহরটিতে বিদ্যুৎবিভ্রাট অন্তত ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।
এ সময় কোভেল শহরের একটি শুল্ক টার্মিনালে হামলা চালানো হয়। এতে প্রায় ১০টি ট্রাকে আগুন ধরে যায়। শহরটি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে পোল্যান্ডগামী একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।
ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার রাশিয়ার হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সংযোগ পুনরায় চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো কত মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে, রাশিয়ার পৃথক হামলায় ইউক্রেনের অন্তত দুটি বিপণিবিতান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর একটি
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থিত সুমি শহরের একটি বিপণিবিতানে হামলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিপণিবিতান ও বাজারগুলোকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার একের পর এক হামলার মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।


