ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ অন্তত সাতটি অঞ্চলে এ হামলা চালানো হয়।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এক রাতেই রাশিয়া থেকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ৬৫৬টি ড্রোন এবং ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এসব অস্ত্রের মধ্যে ৩৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৮টি ‘জিরকন’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।
ইউক্রেনের দাবি, তারা ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০২টি ড্রোন ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। তবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কয়েকটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।
কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন, রাজধানীতে হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং তিন শিশুসহ ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক আবাসিক ভবন, একটি কিন্ডারগার্টেন, একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং প্রশাসনিক স্থাপনা। হামলার ফলে শহরের বড় একটি অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। নিরাপত্তার জন্য হাজারো মানুষ মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটান।
এ ছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রো শহরে পৃথক হামলায় দুই শিশুসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে একটি চারতলা আবাসিক ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ১৮
হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া এ আক্রমণের মাধ্যমে নতুন বার্তা দিতে চেয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি দ্রুত অতিরিক্ত ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান।
জেলেনস্কির ভাষ্য, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর সক্ষমতা জোরদার না হলে ইউক্রেনের বেসামরিক জনগণ আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।


