আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে বলে জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
সোমবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় গাজীপুর জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে, এদিন দুপুরে তাহরিমা জান্নাত সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছিল।
তবে একই দিন সন্ধ্যায় তার জামিন মঞ্জুর হওয়ার তথ্য জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত বুধবার রাতে গাজীপুরের টঙ্গীতে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাহরিমা জান্নাত সুরভী গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও লাইভের মাধ্যমে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলার ভয় দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত তাহরিমা জান্নাত সুরভী।
অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যা মামলায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করা হয়।
মামলার আসামি বানানো, পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কা দেখিয়ে এবং পরে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার প্রলোভনে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে মোট প্রায় ৫০ কোটি টাকা আদায় করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, কালিয়াকৈর থানায় করা একটি মামলায় তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ওই মামলার বাদী নাইমুর রহমান দুর্জয় নামে এক যুবক।
মামলার অভিযোগে সুরভীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ করে অর্থ আদায় এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি সেনাপ্রধানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন বলেও দাবি পুলিশের।


