রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র টমাহক দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন আপাতত এমন কোনো চুক্তির কথা ভাবছে না। যুক্তরাষ্ট্র শান্তিতে বিশ্বাসী। ইউক্রেনের হাতে টমাহক তুলে দিয়ে আমরা যুদ্ধ ও সংঘাত আরও উস্কে দিতে চাই না।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সামরিক সহযোগিতার জোট ন্যাটোর অন্তর্ভূক্ত দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনাতেও বেশ শীতল মনোভাব পোষণ করেছেন ট্রাম্প। তার ধারণা, ন্যাটো এই টমাহকগুলো ইউক্রেনের কাছে বিক্রি করবে এবং রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে উত্তেজনা বাড়াবে যা ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কাজেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকেও টমাহক দিতে চান না।
রোববার ফ্লোরিডার পাম বিচ থেকে ওয়াশিংটন যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তিনি এখনও ইউক্রেনের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তির পরিকল্পনায় আগ্রহী নন।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক বিক্রির চুক্তি বিবেচনা করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, তেমন নয়। আপাতত এমন সম্ভাবনা নেই। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনায় মত বদলাতেও পারে।’
প্রায় দুই হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষমত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়া হলে এবং তা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার গভীরে, এমনকি মস্কোতেও আঘাত হানতে সক্ষম।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বারবার ওয়াশিংটনের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্র চাওয়ায় ক্রেমলিন এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, কিয়েভকে টমাহক সরবরাহ করা হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে টমাহকের চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। রুটে গত শুক্রবার বলেন, ‘বিষয়টি পর্যালোচনায় আছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্রের। তারাই সরবরাহ করবে।’
এদিকে ন্যাটোর পক্ষ থেকে গত রোববার বলা হয়, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আলোচনা শুরু না হওয়া পর্যন্ত ন্যাটো ইউক্রেনের পাশেই থাকবে। জোটের সামরিক কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল জিউসেপ্পে কাভো দ্রাগোনে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন স্থবির অবস্থায় পৌঁছেছে। অবিলম্বে এর সুরাহা প্রয়োজন। এখন সময় আলোচনার টেবিলে বসে কথা বলার, কারণ এই যুদ্ধ কেবল প্রাণের অপচয়।’
তিনি জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের ফলে পশ্চিমা সামরিক জোটের আরও দুই দেশ—ফিনল্যান্ড ও সুইডেন এ যুদ্ধে জড়িয়ে গেছে। দ্রাগোনে বলেন, ‘সম্প্রতি রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে সামান্য কিছু অগ্রগতি অর্জন করলেও, এটি নিশ্চিত- যুদ্ধটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি কৌশলগত ব্যর্থতা।’
‘তারা ইউক্রেনে বেলারুশের মতো কোনো অনুগত বা পুতুল সরকার পাবে না। ইউক্রেনকে রুশ আনুগত্যে বাধ্য করার এই চেষ্টায় পুতিন সফল হবেন না।’

ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনে প্রতিরক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা নিয়ে সচেতন হয়েছে। ইউক্রেন ইউরোপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বে আঘাত মানে প্রতিটি ইউরোপীয় দেশকে আঘাত করা। কাজেই প্রতিটি ইউরোপীয় দেশ ইউক্রেনকে সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। এটি ইতিবাচক দিক।’
গত জুনে ন্যাটো সদস্যরা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়। দ্রাগোনে বলেন, ‘ন্যাটো রাশিয়ার কোনো হুমকিতে উদ্বিগ্ন নয়। আমরা “একটি প্রতিরক্ষামূলক পারমাণবিক জোট।” কাজেই আমরা হুমকির মুখে নই। ন্যাটো তার ৩২টি দেশ ও এক বিলিয়ন মানুষকে রক্ষা করতে সবসময় প্রস্তুত।’
এ জোটে যুক্তরাষ্ট্রও ন্যাটোর পাশে থাকবেন বলে জানান দ্রাগোনে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকেও এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কারণ তারাই এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং স্পষ্ট করেছে- তারা এখনো এই প্রতিরক্ষার অংশ।’


