আ. লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে: জয়

আ. লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে: জয়
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ফাইল ছবি, সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে দলীয় সমর্থকরা ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে আয়োজনে বাধা দেবে। এমনকি নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়ে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।

রোববার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুশিয়ারি দেন।

সোমবার ঢাকার আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাসিনার অনুপস্থিতিতেই বিচার করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে এ মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। জয় দাবি করেন, ভারত তাকে ‘রাষ্ট্রপ্রধানের মতো’ নিরাপত্তা দিচ্ছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রসঙ্গে জয় বলেন,  ‘তারা তাকে দোষী সাব্যস্ত করবে এবং সম্ভবত মৃত্যুদণ্ড দেবে। কিন্তু তারা আমার মায়ের ক্ষতি করতে পারবেন না। তিনি ভারতে নিরাপদে আছেন।’

এর আগে হাসিনা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘রায়ের ফলাফল “আগেই নির্ধারিত”। কারণ বিচার প্রক্রিয়া ছিল “রাজনৈতিক নাটক”।

তবে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে, বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। আদালত স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে এবং নিয়মিত নথিপত্র প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন

অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় নিরাপত্তা ও দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্তের অজুহাতে মে মাসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে এবং দলটির নিবন্ধন স্থগিত রাখে। এ বিষয়ে জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। দলটিকে ছাড়া নির্বাচন হতে দেব না। আমাদের প্রতিবাদ আরও শক্তিশালী হবে এবং যা প্রয়োজন তাই করবো। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কিছু না করলে নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশে সহিংসতা দেখা দিতে পারে।’

এই মন্তব্যের উত্তরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখপাত্র জানান, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। নির্বাসিত রাজনীতিকদের সহিংসতার উসকানি ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও নিন্দনীয়’।

এ দিকে, রায়ের আগেই ঢাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়তে শুরু করে। রোববার শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার একদিনেই ৩২টি বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কয়েক ডজন বাসে আগুন দেওয়া হয়। পরে নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লীগ কর্মীদের আটক করছে পুলিশ।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৪০০-এর বেশি বর্ডার গার্ড মোতায়েন, চেকপোস্ট জোরদার এবং গণসমাবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

জয় জানান, তিনি ও শেখ হাসিনা দেশের ভেতরে থাকা দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বা বিএনপির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই।

তিনি হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, ‘দেশজুড়ে শাটডাউন ও বিক্ষোভ চলছে। এগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় হবে।’

শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৃতিত্ব পেলেও মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিরোধীদের দমন-পীড়নের অভিযোগে সমালোচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধীদলীয় বয়কটের মধ্যেও টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসেন তিনি। এখন পরিস্থিতি উল্টে গেছে। এ বিষয়ে জয় বলেন, ‘তিনি (হাসিনা) ক্ষুব্ধ, হতাশ ও ক্রুদ্ধ। আর আমরা যা প্রয়োজন তাই করে লড়াই চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

এ বিষয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে সহিংসতায় প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটিই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতা।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশে গত বছরের বিক্ষোভের কারণে এই শিল্পেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad