সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেই সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং জন-প্রত্যাশা পূরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন।
তিনি বলেন, জনগণ যাতে সহজে, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত আস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।
মঙ্গলবার নগরীর পিটিআই সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প’-এর আওতায় অনুষ্ঠিত জেলা পর্যায়ের অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ইপসা’র পরিচালক নাছিম বানু শ্যামলী এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম আনোয়ার ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে আদালতের ওপর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত একটি সফল উদ্যোগ।’
তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার কাছে আসা নাগরিকটি যেন কাঙ্ক্ষিত সেবা নিয়ে ফিরে যেতে পারে। সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু কোনো নাগরিক যেন সেবাবঞ্চিত না হয়।’
সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন বলেন, গ্রাম আদালতের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সেবামুখী মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং সচেতনতা বাড়াতে প্রচার জোরদার করতে হবে।
সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম আদালত কার্যক্রম পর্যালোচনা করে মিরসরাইসহ যেসব ইউনিয়নে মামলার সংখ্যা কম, সেখানে সচেতনতা বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


