জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪ ও ১৫ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য এ দিন ধার্য করে। এ মামলার অন্যতম আসামি ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক পরিদর্শক আরাফাত হোসেন এদিন নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, বিএম সুলতান মাহমুদ। পরে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, আসামিপক্ষ সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ায় তারা আগে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে ৫ জানুয়ারি, এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
গত বছরের ২ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের মৃতদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা।
পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এর আগের দিন একজন শহীদ হন। এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।


