ঈদুল আজহার আর মাত্র ৩ দিন বাকি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠার কথা কোরবানির পশুর হাট। তবে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট চরচারতলা গরুর বাজারে। হাটে পর্যাপ্ত পশু উঠলেও এখনো পর্যন্ত আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরুর খামারি, বিক্রেতা ও বাজারের ইজারাদার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এবছর স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে বসেছে ১১২টি পশুর হাট।
আশুগঞ্জের চরচারতলা,খোলাপাড়া, শরীফপুর,তালশহর ও মৈশার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দেশি জাতের গরুর পাশাপাশি মহিষ, ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের কোরবানির পশু উঠতে শুরু করেছে। তবে গত বছরের তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি ও কেনাবেচা দুটোই কম।
চরচারতলা বাজার ইজারাদার মাহে আলম জানান, হাটে পর্যাপ্ত গবাদিপশু আছে। কিন্তু গত দু’তিন দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। এতে লোকসানের আশঙ্কায় আছেন ইজারাদার ও গবাদিপশুর বিক্রেতারা।
বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের আর মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও এখনো পর্যন্ত তেমন গরু বিক্রি হয়নি। বিশেষ করে বড় আকারের গরুর ক্রেতা কম থাকায় তারা বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের কিছুটা আগ্রহ থাকলেও সেটিও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।

গরুর খামারি তাজুল ইসলাম জানান, তার খামারে যত গরু আছে তার তিন ভাগের এক ভাগও বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। বাজারে মাজারি গরুর চাহিদা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এতে খামারিদের লোকসান গুনতে হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার প্রায় ১৫ হাজার খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার পশু। আর জেলায় সম্ভাব্য কোরবানির চাহিদা প্রায় এক লাখ ৬৯ হাজার পশুর। অন্যান্য জেলা থেকে আসা পশু দিয়ে চাহিদা পূরণ করা হয়।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের দাবি, আশপাশের জেলা থেকে পর্যাপ্ত পশু প্রবেশ করায় বাজারে বড় ধরনের সংকট বা ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
এদিকে কোরবানির হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি বাজার কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরাও সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার কাজ করছেন।


