আল্লাহর পরেই আদালতের প্রতি নিজের সম্মান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর পরেই আপনাদের প্রতি আমার সম্মান রয়েছে। আমার বয়স ৭৮ বছর। আদালত অবমাননার কথা জীবনে কখনো বলিনি।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সোমবার সকালে ফজলুর রহমান শুনানিতে হাজির হন।
শুনানি শেষে তাকে সতর্ক করার পাশাপাশি অব্যাহতি দেয় বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল।
ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী।
শুনানিতে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘ফজলুর রহমান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, পলিটিশিয়ান ও মুক্তিযোদ্ধা। তার বক্তব্যের বিষয়ে আমরা লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছি।’
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘আমি প্রথম দিন থেকেই বলছি, এই কোর্ট আমি মানি না। প্রতিদিন বলছি এই কোর্ট আমি মানি না।’ এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলে, ‘আমরা একটু ফজলুর রহমানকে শুনতে চাই।’
ফজলুর রহমান জবাবে বলেন, ‘আমি এভাবে বলিনি।’ এ সময় ব্যারিস্টার কাজল বলেন, ‘আমরা ব্যাখ্যা দিয়েছি।’
তখন ট্রাইব্যুনাল বলে, আমরা উনার কাছ থেকে শুনি। উনি যদি বলেন, এগুলো বলিনি একভাবে কনসিডার করব, আর যদি বলেন, বলেছি, আরও বলব; তাহলে অন্যভাবে কনসিডার করব।
ব্যারিস্টার কাজল বলেন, ‘আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চাচ্ছি। ভবিষ্যতে সতর্ক থাকবেন।’
ট্রাইব্যুনাল বলে, ‘ওনাকে তো আমরা চিনি। সিনিয়র পলিটিক্যাল লিডার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। কথা হলো, তিনি আরও বলবেন কি না? তিনি যা বলেছেন, তা শুধু বাংলাদেশ না, সারা বিশ্বের মানুষ দেখেছে। তিনি এসব বললে মানুষ কি মনে করবে?’
ট্রাইব্যুনাল বলে, এখানে শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অপরাধেরই বিচার হবে না; আইনে বলা আছে, আইন হবার আগে-পরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে।
ব্যারিস্টার কাজল বলেন, ‘এই ট্রাইব্যুনালের বিচার সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। তাই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই’।
ট্রাইব্যুনাল বলে, ‘বাইরে আলোচনা হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের এখানে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আরে, আমরাও তো মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছি। আমার পরিবারে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছি, কোন ব্রিজ ভাঙতে হবে; দেখিয়ে দিয়েছি, সহযোগিতা করেছি। আমরা মুক্তিযোদ্ধা না, যারা লন্ডনে ছিল তারা মুক্তিযোদ্ধা? কিন্তু আমরা কখনো এগুলো বলি না। এদেশে কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করে না। কথা কথায় মুক্তিযোদ্ধাদের টানবেন না।’
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত ৩০ নভেম্বর প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি শেষে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। সেখানে আদালত অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে তলবও করা হয়।


