জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র আমির হোসেন আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ২২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়। এর আগে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
আমির হোসেন আমু ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মির্জা আজম ছাড়া বাকি ছয় আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।
গত ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এর আগে দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর সেটিকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে হামলা ও উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা এসব নেতা আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন। ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে অংশ নিয়ে তারা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কারফিউ জারি এবং কারফিউকে কাজে লাগিয়ে হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা শীর্ষ নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।


