জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আমির হোসেন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক হোসেন ফারুকী বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় আরিফ নামের এক শিক্ষার্থীর চোখে গুলি লাগে। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মামলা করেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরী এ মামলার ৫৩ নম্বর আসামি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে তার পক্ষে সংবাদ প্রচার এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছেন ইকবাল সোবহান। তিনি আগে আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তিনি।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, তারা জামিনের আবেদন করেননি। ইকবাল সোবহানের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় কারাগারে ডিভিশন ও সুচিকিৎসা চেয়ে দুটি আবেদন করেছেন। তিনি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। শেখ হাসিনার আমলে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার দায়িত্বেও ছিলেন।
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আপাতত ইকবাল সোবহানের রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে না। তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে ডিবির একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ইকবাল সোবহানকে আদালতে আনা হয়। পরে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে কড়া পুলিশি পাহারায় এজলাসে তোলা হয়। বিকেল ৪টা ১ মিনিটে বিচারক এজলাসে বসার পর শুনানি শুরু হয়।
এর আগে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে চ্যানেলটির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অপরাধ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী দৈনিক ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বেও রয়েছেন।
আটকের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন জানান, একটি খবর প্রচারকে কেন্দ্র করে ডিবিসি কার্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে কী ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
পরে বুধবার রাতে যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। অন্যদিকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া ডিবিসির বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে জুলাই আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় চোখে গুলিবিদ্ধ হন লর্ড হার্ডিঞ্জ ফাযিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আরিফের বাবা ইউসুফ ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে ৫৩ নম্বর আসামি হিসেবে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নাম রয়েছে।


