শীতলক্ষ্যা দূষণে ক্ষতির হিসাব চেয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ

শীতলক্ষ্যা দূষণে ক্ষতির হিসাব চেয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

শিল্পকারখানার বর্জ্যে শীতলক্ষ্যা নদী দূষণের কারণে পরিবেশ ও অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে পরিবেশ সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) গণমাধ্যমে প্রকাশিত শীতলক্ষ্যা দূষণের প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে রিটটি করে। এতে অভিযোগ করা হয়, নদীতীরের বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে বর্জ্য ফেলার কারণে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ৬ মে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একই সঙ্গে দূষণকারী কারখানাগুলো পর্যবেক্ষণে কমিটি গঠন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দূষণে আর্থিক ক্ষতির হিসাব নিরূপণের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আর এস কে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিট ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এম আর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লাহ নিট ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং ও হাজী রাসুল ডাইং।

এইচআরপিবি আদালতকে জানায়, পরিবেশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা পরিচালনা দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ অভিযোগ রয়েছে, অনেক শিল্পকারখানা ইটিপি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য নদীতে ফেলছে। এতে নদী ও আশপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংগঠনটির আইনজীবী আরও জানান, প্রায় এক বছর আগে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু এখনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। শুনানি শেষে আদালত আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশ, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং ১১৭টি শিল্পকারখানার মালিককে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad