প্রতিবন্ধী নাজমার পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা

প্রতিবন্ধী নাজমার পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা
ছবি: ঢাকা জেলা প্রশাসনের সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

বাবা-মা ও ভাইহারা, জীবনে গড়তে পারেননি নিজের সংসারও। ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ৬৫ বছর বয়সী নাজমা আক্তার এখন হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। ভরসা বলতে স্বল্প আয়ের ছোট বোন। এমন অসহায় নাজমার চিকিৎসা ও জীবনযাপনের দায়িত্ব নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানমের উদ্যোগে তাকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নাজমা আক্তারের হাতে দ্বিতীয় বারের মতো এ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাজমা আক্তারের আদি বাড়ি বিক্রমপুরের মজিদপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি ছোট বোন আছমা আক্তারের সঙ্গে রাজধানীর মগবাজারে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বিয়ে হয়নি। বাবা-মা ও ভাই কেউ বেঁচে না থাকায় ছোট বোনই তার একমাত্র আশ্রয় ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন।

কিন্তু সীমিত আয়ের সংসারে নিজের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বড় বোনের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হয় আছমাকে। নাজমার ওষুধপত্র কিনতেই প্রতি মাসে প্রয়োজন হয় তিন থেকে চার হাজার টাকা। ফলে তার চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

নাজমার ছোট বোন আছমা আক্তার বলেন, ‘আমি আমার প্রতিবন্ধী বোনকে সঙ্গে নিয়ে এখানে এসেছি। আমি ছাড়া তার দেখাশোনা করার মতো আর কেউ নেই। একটি অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছিল। তিনি নিজেই আমার বোনকে দেখে আন্তরিকতার সঙ্গে খোঁজখবর নেন এবং তাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতে বলেন। তার কথা মতো আসার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছি। আজও আমরা এই সহায়তা নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসেছি।’

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ‘এই টাকা দিয়ে বোনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, প্রতি মাসের তিন থেকে চার হাজার টাকার ওষুধপত্র কেনা এবং তাকে ভালো খাবার, ফলমূল ও মাছ-মাংস কিনে দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। সরকারের এমন মানবিক উদ্যোগ ও সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এই সহায়তায় আমি সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত ও সন্তুষ্ট।’

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, তিন-চার মাস আগে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে মায়ার বাঁধন নামে প্রতিবন্ধী শিশুদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে নাজমা আক্তারের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সেখানে তার অসহায়ত্ব ও জীবনসংগ্রামের বিষয়টি জানতে পারি। তার বয়স ৬৫ বছর।

ছোটবেলা থেকেই তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বাবা-মা ও ভাই কেউ বেঁচে নেই, বিয়েও হয়নি। বর্তমানে তার ছোট বোনই তাকে দেখাশোনা করছেন। কিন্তু বোনেরও সীমিত আয়। ফলে নাজমার চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তার পক্ষে কঠিন, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাজমার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার চিকিৎসা, ওষুধপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসেই এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘আমাদের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। তবে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও এ ধরনের মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। সবার সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ ও সহযোগিতা অসহায় মানুষের জীবনকে সহজ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে পারে। আমরা চাই, সমাজের কোনো মানুষই যেন অসহায়ত্বের কারণে অবহেলিত না থাকেন।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের চর্চা বাড়াবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠতে পারে আরও মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad